সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

কুলিয়ারচরে প্রকাশ্য সড়কে জুয়েল হত্যা, ৩ মাসেও অধরা আসামিরা; ক্ষোভ ও হতাশায় পরিবার

ফলোআপ: কুলিয়ারচরে প্রকাশ্য সড়কে জুয়েল হত্যা, ৩ মাসেও অধরা আসামিরা; ক্ষোভ ও হতাশায় পরিবার

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে প্রকাশ্য সড়কে অটোরিকশাচালক মো. কুদ্দুস মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়াকে (২০) পিটিয়ে হত্যার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি তদন্তের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি প্রকাশ্যে না আসায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অধীনে তদন্তাধীন রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই বিকেলে উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বড়চারা বাজারের কাছে একটি ডিমবাহী গাড়ি থামিয়ে জুয়েলকে জোরপূর্বক নামিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরপরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। ওই রাতে জুয়েল হত্যার বিচারের দাবিতে নিহতের মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এলাকাবাসী। গত ১৩ জুলাই আগরপুর-পুড়াদিয়া সড়কের লক্ষ্মীপুর বাজারসংলগ্ন সেতু এলাকায় প্রায় চার ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। পরবর্তীতে ১৬ জুলাই নিহতের বাবা কুদ্দুস মিয়া বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জের আমলগ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর গত ২০ ও ২১ জুলাই বড়চারা নতুন বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন বড়চারা গ্রামবাসী। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটে যাওয়া এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। অন্যদিকে, একই কর্মসূচিতে মামলায় নাম থাকা কয়েকজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি না করার আহ্বান জানান।

ঘটনার তিন মাস পূর্ণ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার কিংবা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের খবর পাওয়া যায়নি। মামলাটি পিবিআইয়ের অধীনে তদন্তাধীন থাকলেও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে কোনো তথ্য না পাওয়ায় স্বজনদের মনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে কিছু তথ্য গোপন রাখা হতে পারে। তবে নিহতের পরিবারের একমাত্র প্রত্যাশা, কোনো চাপ বা প্রভাবের কারণে যেন তদন্তপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত না হয়।

নিহতের পরিবার ও সচেতন এলাকাবাসী চান, পিবিআই দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনুক। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *