সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

কুলিয়ারচরে কালবৈশাখী ঝড় ও টানা দুদিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

কুলিয়ারচরে কালবৈশাখী ঝড় ও টানা দুদিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি দুদিনের টানা বৃষ্টিতে শত শত একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। পানিতে ডুবে থাকা ধান দ্রুত কাটতে গিয়ে একদিকে বাড়তি মজুরি গুনতে হচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে ধানের দাম কম থাকায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন কৃষকরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে কালো মেঘ জমে প্রবল দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। ঝড়ের তীব্রতায় গাছপালা উপড়ে পড়ে ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং মঙ্গল ও বুধবারের টানা দুদিনের বৃষ্টিতে মাঠের পাকা ও আধাপাকা ধানসহ বিভিন্ন ফসল পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে নষ্ট হয়ে যায়।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, দুদিনের টানা বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ জমি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। পানির উচ্চতা বাড়ার আশঙ্কায় অনেক কৃষক আধাপাকা ধান দ্রুত কেটে ফেলার চেষ্টা করছেন। তবে এই সময়ে দেখা দিয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। সুযোগ বুঝে শ্রমিকরা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি মজুরি দাবি করছেন। বর্তমানে একজন শ্রমিককে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে, যা সাধারণ সময়ের প্রায় দ্বিগুণ।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক বিঘা জমির ধান কাটতে যে খরচ হচ্ছে, তা বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করেও ওঠানো সম্ভব হবে না। ফলে উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না অনেকেই।

দুর্দশার কথা তুলে ধরে এক কৃষক বলেন, “ধার করে চাষ করছিলাম। এখন ধান পানির নিচে। বেশি টাকায় শ্রমিক এনে ধান কাটতে হচ্ছে, কিন্তু বাজারে দামের অবস্থা খারাপ। কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না।”

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে কুলিয়ারচরের কৃষি খাতে বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সরকারি সহায়তা প্রদান এবং ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে এলাকার কৃষকদের। তারা দ্রুত কৃষি বিভাগের নজরদারি ও সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *