সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

কুলিয়ারচরে ইউএনওর ব্যতিক্রমী পদক্ষেপে দম্পতির মুখে আবার ফুটেছে হাসির ঝিলিক

কুলিয়ারচরে ইউএনওর ব্যতিক্রমী পদক্ষেপে দম্পতির মুখে আবার ফুটেছে হাসির ঝিলিক

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকারের মানবিক ও ব্যতিক্রমী পদক্ষেপে ভেঙে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেল একটি পরিবার। ইউএনওর মধ্যস্থতায় স্বামী-স্ত্রীর দীর্ঘদিনের ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটার পর দম্পতির মুখে আবার ফুটেছে হাসির ঝিলিক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুলিয়ারচর পৌরশহরের নোয়াগাঁও বেপারিপাড়া মহল্লার বাসিন্দা সানাউল্লাহ মিয়ার সঙ্গে তাঁর স্ত্রী জুলেখা আক্তারের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বিচার ও প্রতিকার চেয়ে ইউএনওর শরণাপন্ন হন স্ত্রী জুলেখা। বিষয়টির সংবেদনশীলতা অনুধাবন করে ইউএনও মো. ইয়াসিন খন্দকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দম্পতিকে তাঁর কার্যালয়ে ডেকে পাঠান।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরের দিকে উপজেলা কার্যালয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য অত্যন্ত ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে শোনেন ইউএনও। পরবর্তীতে সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ তুলে ধরে আলোচনার মাধ্যমে উভয়ের মধ্যকার মান-অভিমান ও ভুল বোঝাবুঝি দূর করেন তিনি। প্রশাসনের এই আন্তরিক প্রচেষ্টায় সানাউল্লাহ ও জুলেখা অতীতের সব ভুলে পুনরায় এক ছাদের নিচে সংসার শুরু করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সংকটের ইতি টেনে শুধু পুনর্মিলনই নয়, এই স্মরণীয় মুহূর্তকে আরও আনন্দময় করতে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করা এই দম্পতির হাতে বিশেষ উপহারও তুলে দেন ইউএনও মো. ইয়াসিন খন্দকার।

পুনর্মিলনের এই সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহ আলম, কুলিয়ারচর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আজহার উদ্দিন লিটন, সাংবাদিক মো. নাঈমুজ্জামান নাঈম, আলী হায়দার ও মো. সবুজ মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

স্থানীয় সচেতন মহল এই মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে জানায়, আদালতের দীর্ঘসূত্রতা ও সামাজিক টানাপোড়েন এড়িয়ে প্রশাসনের এমন মানবিক হস্তক্ষেপে একটি পুরো পরিবার ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে গেল। এ ঘটনা সমাজে পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় রাখতে ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে মনে করেন তারা।

প্রশাসনের এই অনন্য ভূমিকা সম্পর্কে ইউএনও মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, আন্তরিকতা, ধৈর্য ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে যেকোনো পারিবারিক বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে মেটানো সম্ভব। জনবান্ধব ও মানবিক প্রশাসন গড়ে তুলতে স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে এ ধরনের সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *