বায়েজিদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা): কারও প্রতি কোনো অভিযোগ নেই সালিশে মারধরের শিকার অসামাজিক কাজে অভিযুক্ত চাঁদনী আক্তারের। ভবিষ্যতে সুপথে চলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সবার দোয়া কামনা করেছেন তিনি। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের বরিশাল গ্রামের চাঁদনীর সঙ্গে কথা বলেন পলাশবাড়ী থানা-পুলিশের একটি দল। এ সময় তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান, দ্বিতীয় কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল আলী ও উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার।
পুলিশের পক্ষ থেকে চাঁদনীকে মামলা দায়েরসহ সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হলেও তিনি বলেন, আমি ভুল পথে পা বাড়িয়েছিলাম। আমার ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য আমার ভাই-চাচারা আমাকে সালিশে শাসন করেছেন। এতে আমার কারও প্রতি কোনো অভিযোগ নেই। আমি ভবিষ্যতে সুপথে চলতে চাই। এ সময় চাঁদনীর মা মেয়ের জন্য উপস্থিত সবার দোয়া কামনা করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের বরিশাল গ্রামে চাঁদনীর বাড়ির পাশের একটি ফাঁকা স্থানে স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানে উপস্থিত সবার সামনে চাঁদনীকে মারধর করা হয় এবং সুপথে চলার জন্য কান ধরে তওবা (প্রতিজ্ঞা) করানো হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে মন্তব্য করেন নেটিজেনরা।
চাঁদনী আক্তার বরিশাল গ্রামের ইব্রাহীম খলিলের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল বরিশাল গ্রামের ইব্রাহীম খলিলের মেয়ে চাঁদনী আক্তার নিজের নাম পরিবর্তন করে ‘রাসেল’ পরিচয়ে পলাশবাড়ী পৌরসভার হিজলগাড়ী গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে লাবনী আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ের প্রায় পাঁচ মাস পর সম্প্রতি বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
স্থানীয়দের দাবি, চাঁদনী ও লাবনীর মধ্যে আগে থেকেই পরিচয় ও সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্ককে বিয়ের মাধ্যমে সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে চাঁদনী পুরুষ পরিচয় ব্যবহার করে লাবনীকে বিয়ে করেন। প্রায় এক মাস আগে বিষয়টি প্রথমে চাঁদনীর বাবা ইব্রাহিম খলিলের নজরে আসে। পরে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে এলাকায় সালিশ বৈঠক বসে। এতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকটি মসজিদের ইমাম ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানায়, সালিশ চলাকালে চাঁদনী ওরফে রাসেলকে মারধর করা হয় এবং কান ধরে ওঠবস করানো হয়। এ সময় তাঁকে তওবা পড়ানো হয় বলেও জানা গেছে। সালিশে চাঁদনী নিজের দোষ স্বীকার করে সবার কাছে ক্ষমা চান বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে বরিশাল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আশরাফুল ইসলাম বলেন, তারা দুজনই মেয়ে। মেয়ে-মেয়ে কি কখনো বিয়ে হয়? শুনেছি, তারা আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেছে। বিয়ের পর থেকে তারা সংসারও করছিল। পরে বিষয়টি জানাজানি হয়।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়রা জানতেন, চাঁদনীর সঙ্গে থাকা মেয়েটি তাঁর বান্ধবী। কিন্তু তাঁদের বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হলে চাঁদনীর বাড়ির পাশের একটি ফাঁকা স্থানে স্থানীয়দের উদ্যোগে সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে চাঁদনীকে এ ঘটনার দায়ে মারধর করা হয়েছে। এ সময় ভুল স্বীকার করে চাঁদনী বলেন, আমার এলোমেলো চলাফেরার কারণে বড় ভাই ও চাচারা আমাকে শাসন করেছেন। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই।

