আতাউর রহমান কাজল, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার): বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো পিঠা উৎসব। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিনব্যাপী শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এই পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক ছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা উপস্থিত ছিলেন। ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক, বিশেষ করে মায়েদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
আবহমান বাংলার এক চিরায়ত সংস্কৃতি পিঠা-পুলির উৎসব। বাংলার ঐতিহ্যবাহী শীতকালীন এই সংস্কৃতির ধারাকে অব্যাহত রাখতে বুধবার বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আয়োজন করে পিঠা উৎসবের।
পিঠা উৎসবে নানান রকম পিঠার সমাহারে সজ্জিত ছিল স্টলগুলো। উক্ত উৎসবে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের ঢল নেমেছিল। বিভিন্ন স্টলে উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। স্টলগুলোতে পিঠা বিক্রির ধুম ছিল লক্ষণীয়। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের পদচারণায় উৎসবস্থল ছিল আনন্দ ও উৎসবের আমেজে মুখরিত। অনুষ্ঠানকে ঘিরে ছিল সেলফি তোলার ধুম। বেলুন ও ফেস্টুন দিয়ে সাজানো স্কুল প্রাঙ্গণ ছিল উৎসবের রঙে রঙিন।
গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে পিঠা-পায়েস তৈরির ধুম শীতকালেই বেশি পড়ে। কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর বা সন্ধ্যায় গাঁয়ের বধূরা চুলার পাশে বসে ব্যস্ত সময় কাটান পিঠা তৈরিতে। অতিথি, বিশেষ করে জামাই ও আত্মীয়-স্বজনদের এ সময় দাওয়াত করে পিঠা খাওয়ানো হয়। এ সময় খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরি হয়, পাশাপাশি তৈরি হয় পায়েস ও নানা ধরনের মিষ্টান্ন।
বাঙালির লোকজ ইতিহাস ও ঐতিহ্যে পিঠা-পুলি প্রাচীনকাল থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পিঠা-পায়েস সাধারণত শীতকালের খাবার হিসেবে অত্যন্ত পরিচিত এবং মুখরোচক খাদ্য হিসেবে বাঙালি সমাজে আদৃত। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে আরও দৃঢ় ও মজবুত করতে পিঠা-পুলির উৎসব বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
সবচেয়ে জনপ্রিয় পিঠা হলো ভাপা পিঠা। এছাড়াও রয়েছে চিতই পিঠা, দুধচিতই, পাটিসাপটা, নকশি পিঠা, মালাই পিঠা, পাকন পিঠা, ঝাল পিঠা ইত্যাদি। বাংলাদেশে প্রায় শতাধিক ধরনের পিঠার প্রচলন রয়েছে।
শীতকালে শুধু গ্রামবাংলায় নয়, শহর এলাকাতেও পিঠা খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। ইদানীং শহরেও পাওয়া যায় শীতের পিঠার স্বাদ। পিঠা-পুলি আমাদের লোকজ ও নান্দনিক সংস্কৃতিরই প্রকাশ। গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে এসব পিঠা-পার্বণের আনন্দ-উদ্দীপনা এখনো মুছে যায়নি। পিঠা-পার্বণের এই আনন্দ ও ঐতিহ্য যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে বাংলার ঘরে ঘরে।
আজ সকাল ১১টায় পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জহির আলী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. লোকমান হোসেন, মো. মিজানুর রহমান, সিরাজুল হক, আতাউর রহমান, লিটন ধরসহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ।

