পটুয়াখালী (লক্ষ্মীপুর): ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম নিশ্চিত করতে সরকার শনিবার (৪ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন দেশব্যাপী মাছ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহণ, মজুদ ও বাজারজাতকরণে পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ সময়ে দেশের সব নদী ও সমুদ্রে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সরকারের এ নিষেধাজ্ঞা মেনে নিতে প্রস্তুত উপকূলের জেলেরা পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, মহিপুর ও আলীপুরের গভীর সমুদ্রগামী জেলেরা ইতোমধ্যেই মাছ ধরা বন্ধ রাখার সব প্রস্তুতি নিয়েছেন। তারা নিরাপদে তাদের মাছধরা ট্রলারগুলো ঘাটে ফিরিয়ে এনেছেন এবং এই সময়ে ট্রলারের প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ সেরে নেবেন বলে স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
নিষেধাজ্ঞার ফলে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর ও রামগতি উপজেলার ৩৪ হাজার ৪৫৮ জন নিবন্ধিত জেলে এখন সম্পূর্ণ বেকার হয়ে পড়েছেন। উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে কমলনগরে ১৪ হাজার ৯৮ জন এবং রামগতিতে ২০ হাজার ৩৬০ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। এই সময়ে জীবনধারণের জন্য সরকার প্রতিটি জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল সহায়তা দেবে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ে সঠিক তালিকা তৈরি করে জেলেদের মধ্যে এই বরাদ্দকৃত চাল বিতরণের কাজ করা হবে।
মাছের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে সরকার এবার কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকার ১০০ কিলোমিটার মেঘনা নদীকে এই ২২ দিনের জন্য ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের জন্য নদীতে প্রতিদিন বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এই অভিযানে মৎস্য বিভাগের সঙ্গে জেলা-উপজেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয় থাকবে।
এছাড়াও, ইলিশের অভয়াশ্রম রক্ষায় নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগ দিয়ে মৎস্য বিভাগ দক্ষিণের নদীগুলোতে ড্রোন উড়িয়ে পাহারা দেবে।

