ঢাকা: দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর আমাদের মাঝে নেই। তাঁর ইন্তেকালে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের চোখে অশ্রু, ভারাক্রান্ত পুরো জাতি।
আজ তাঁর শেষ বিদায়ে জানাজায় অংশ নিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ সমবেত হন। সকাল থেকেই জানাজার স্থান ঘিরে মানুষের ঢল নামে। অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। শোকাহত মানুষের উপস্থিতি দেশনেত্রীর প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া বেগম খালেদা জিয়া শৈশব ও কৈশোর কাটান এক সংযত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পারিবারিক পরিবেশে। ১৯৬০ সালে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর তাঁর জীবনে আসে এক কঠিন অধ্যায়, যা পরবর্তীতে তাঁকে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।
স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল দৃঢ় ও আপসহীন। আন্দোলন-সংগ্রামের পথে তাঁকে বহুবার কারাবরণ করতে হয়েছে, তবে রাজনৈতিক অবস্থান থেকে তিনি সরে দাঁড়াননি।
তিনি দুই দফায় দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তাঁর অবস্থান ছিল সুস্পষ্ট। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে একজন শক্তিশালী নারী নেত্রী হিসেবে তিনি বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এক প্রভাবশালী ও আলোচিত নাম। তাঁর ইন্তেকালে একটি যুগের অবসান ঘটল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক মহল থেকে একের পর এক শোকবার্তা আসছে।
দেশ আজ বিদায় জানাল এক সংগ্রামী নেত্রীকে। তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রাম ও অবদান দেশের ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

