সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

লামায় নতুন ইটভাটা স্থাপনের উদ্দেশ্যে এস্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে সাবাড়

লামায় নতুন ইটভাটা স্থাপনের উদ্দেশ্যে এস্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে সাবাড়

বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): বান্দরবানের লামা উপজেলায় আইনের তোয়াক্কা না করে দুটি এস্কেভেটর (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে নির্বিচারে পাহাড় কেটে ধ্বংস করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশখাইল্ল্যা ঝিরি এলাকায় এই পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। ২০২৭ সালকে লক্ষ্য করে সেখানে নতুন একটি ইটভাটা স্থাপনের উদ্দেশ্যে প্রায় ১০ একর পাহাড়ি জমি কেটে ইতোমধ্যে প্রথম শ্রেণির সমতল ভূমিতে রূপান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।

এই ঘটনায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতিসাধন এবং পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে পরিবেশ অধিদপ্তর, বান্দরবান কার্যালয়ে একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। রবিবার (১৭ মে) ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা মেম্বার পাড়ার বাসিন্দা মো. ওসমান গনি বাদী হয়ে একই এলাকার মো. লোকমানের বিরুদ্ধে এই আবেদনটি দাখিল করেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মো. লোকমান বেআইনিভাবে ও গায়ের জোরে দুটি এস্কেভেটর মেশিন ব্যবহার করে দিনরাত পাহাড় কেটে সমতল করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিস্তীর্ণ এই পাহাড়ি অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৃক্ষ, বনজ সম্পদ, ঝিরি ও জলধারা ধ্বংস হওয়ায় স্থানীয় জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

অভিযোগকারী মো. ওসমান গনি জানান, আমরা যৌথভাবে এই পাহাড়ি জমিটি ক্রয় করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে বিবাদী প্রতারণামূলক ও সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এস্কেভেটর দিয়ে পুরো পাহাড় কেটে সাবাড় করছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ১০ একর পাহাড় কাটা শেষ। এখানে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে একটি নতুন ইটভাটা করার পাঁয়তারা চলছে।

এলাকাবাসীর দাবি, যদি অবিলম্বে এই অবৈধ পাহাড় কাটা এবং ইটভাটা স্থাপনের প্রস্তুতি বন্ধ করা না হয়, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই অঞ্চল বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। তারা এই পরিবেশ ধ্বংসকারী চক্রের বিরুদ্ধে জরুরি তদন্তসাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযুক্ত মো. লোকমান জানান, ওসমান গনির সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। প্রশাসন যদি সরেজমিনে সত্যতা পায়, তবে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নুর হাসান সজিব-এর মোবাইলে কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *