শফিকুল ইসলাম, তালা (সাতক্ষীরা): বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে একধাপ এগিয়ে তোবা পাইপ অ্যান্ড ফিটিংস ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী মীর শাহিন হোসেন। দুই শতাধিক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে তিনি সর্বমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের কার্পাসডাঙ্গা গ্রামে ২০১২ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন তালা উপজেলার ঘোনা গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মীর জামাল হোসেনের একমাত্র ছেলে মীর শাহিন হোসেন।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ২০০০ সালে ঘোনা পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে তিনি ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। বাবার ব্যবসার দিকে নজর না দিয়ে নিজেই প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে জীবনসংগ্রামে নেমে পড়েন। এসময় টেন্ডারের মাধ্যমে রাস্তা নির্মাণের কাজ করার পাশাপাশি দাতা সংস্থা অ্যাকশনএইডের অর্থায়নে তালায় বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করেন। এর দুই বছর পর পাটকেলঘাটা বাজারে দোকানঘর ভাড়া নিয়ে স্যানিটারি ব্যবসা শুরু করেন। এই ব্যবসার সফলতা তাকে ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। নিজে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এবং এলাকার বেকার সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে তিনি এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি নির্দেশনা মেনে কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে কারখানার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কর্মচারীরাও এখানকার কাজের পরিবেশ ও কর্তৃপক্ষের আচরণে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
একান্ত আলাপচারিতায় মীর শাহিন হোসেন বলেন, এসএসসি পাস করে ঠিকাদারি ব্যবসা শুরু করি। এসময় তালা উপজেলায় ব্যাপক বন্যা হয়। বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনে দাতা সংস্থা অ্যাকশনএইডের অর্থায়নে গরিব মানুষের ঘর তৈরির কাজ করি। এর দুই বছর পর পাটকেলঘাটা বাজারে দোকানঘর ভাড়া নিয়ে স্যানিটারি ব্যবসা শুরু করি এবং ২০১২ সালে এখানে জমি কিনে সরকারি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের অনুমোদন নিয়ে এই পাইপ তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠা করি। এখানে বর্তমানে ২০০-র অধিক কর্মচারী কাজ করছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২ হাজার মানুষের রুটি-রুজি এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নির্ভরশীল। সম্পূর্ণ বিদেশি কাঁচামাল ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় মেশিনের মাধ্যমে প্লাস্টিকের পাইপ তৈরি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সাতক্ষীরা জেলায় সর্বশ্রেষ্ঠ করদাতা হিসেবে পুরস্কার পেয়েছি। এছাড়াও বিএসটিআই থেকে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার, পরিবেশ অধিদপ্তরের পুরস্কারসহ এই প্রতিষ্ঠান একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছে।

