বাঙালি জাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতা, ‘শেরেবাংলা’ খ্যাত আবুল কাশেম ফজলুল হক-এর ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৬২ সালের এই দিনে তিনি ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) ৮৮ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে এই মহান নেতাকে স্মরণ করছে। তাঁর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর বরিশাল জেলার (বর্তমানে ঝালকাঠি) রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার চাখার গ্রামে।
মেধাবী এই নেতা প্রেসিডেন্সি কলেজ কলকাতা থেকে গণিতে অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন (বিএল) ডিগ্রি লাভ করেন।
শেরেবাংলার রাজনৈতিক জীবন ছিল সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে উজ্জ্বল। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- কলকাতার মেয়র (১৯৩৫): তিনি কলকাতা কর্পোরেশন-এর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং নগর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
- অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী (১৯৩৭–১৯৪৩): তিনি কৃষক-প্রজাদের স্বার্থ রক্ষায় ‘ঋণ সালিশি বোর্ড’ গঠন এবং প্রজাস্বত্ব আইনে সংশোধন আনেন।
- লাহোর প্রস্তাব (১৯৪০): লাহোর প্রস্তাব মুসলিম লীগের ঐতিহাসিক অধিবেশনে তিনিই উত্থাপন করেন।
- যুক্তফ্রন্ট সরকার (১৯৫৪): তাঁর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করে এবং তিনি পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন।
- তিনি পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর এবং পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
শেরেবাংলা বিশ্বাস করতেন, শিক্ষাই জাতির অগ্রগতির প্রধান হাতিয়ার। তাঁর উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হয়।
- নারী শিক্ষার প্রসারে তিনি লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ ও ইডেন কলেজ-এর উন্নয়নে অবদান রাখেন।
- নিজ এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন চাখার ফজলুল হক কলেজ।
- তিনি প্রশাসন ও শিক্ষাক্ষেত্রে মুসলিম সমাজের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন অসাম্প্রদায়িক ও গণমুখী রাজনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর আপসহীন অবস্থান এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্ব তাঁকে ‘বাংলার বাঘ’ উপাধিতে ভূষিত করেছে।
জাতি আজও গভীর শ্রদ্ধায় এই মহান নেতাকে স্মরণ করছে। তাঁর আদর্শ ও জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক দর্শন নতুন প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

