দোহার (ঢাকা): ঢাকার দোহার উপজেলায় পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে রাতভর ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি ‘কাটার’ মেশিন জব্দ করা হয় এবং ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার রাতে উপজেলার নারিশা ও মুকসুদপুর ইউনিয়ন সংলগ্ন পদ্মা নদী ও তীরবর্তী এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসফিক সিবগাত উল্লাহ্।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু হলে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে কাটার মেশিনে থাকা শ্রমিকরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সহায়তায় অবৈধ বালু উত্তোলনের সরঞ্জামগুলো জব্দ ও নজরদারিতে নেওয়া হয়।
নদী থেকে উত্তোলিত বালু নারিশা ও মুকসুদপুর এলাকার রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছিল। এর আগে এসব বালু সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা অমান্য করায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ২৩ জনকে আটক করে পুলিশ।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসফিক সিবগাত উল্লাহ্ বালু ব্যবসায়ীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাস্তার পাশের বালুর স্তূপ সরিয়ে নিতে তিন দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বালু অপসারণ না করলে আইন অনুযায়ী আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযান শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড় ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং সরকারি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জনস্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে দোহার থানা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর একটি চৌকস দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

