সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

কুলিয়ারচরে সরকারি রাস্তার দুই পাশ দখলমুক্ত না হওয়ায় নির্মাণাধীন রাস্তার কাজ বন্ধ; জনদুর্ভোগ চরমে

কুলিয়ারচরে সরকারি রাস্তার দুই পাশ দখলমুক্ত না হওয়ায় নির্মাণাধীন রাস্তার কাজ বন্ধ; জনদুর্ভোগ চরমে

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের পূর্ব আব্দুল্লাহপুর থেকে পশ্চিম আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত কাঁচা রাস্তাটি আরসিসি করার কাজ শুরু হয়ে অর্ধেক পথে বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তার পূর্ব আব্দুল্লাহপুর সীমান্তে রাস্তার জায়গা দখল করে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ করায় রাস্তার দুই পাশ দখলমুক্ত না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে মালামাল সরিয়ে নিয়েছে। এতে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

জানা যায়, সরকারি টেন্ডারের মাধ্যমে এমআরআরআইডিপি প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১১৬০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ মিটার প্রস্থের পূর্ব আব্দুল্লাহপুর থেকে পশ্চিম আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত রাস্তাটির নির্মাণকাজ শুরু করে চট্টগ্রামের মেসার্স মোহাম্মদ ইউসুফ অ্যান্ড ব্রাদার্স প্রা. লি. নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাগজপত্র অনুযায়ী কাজটি শুরু হয় ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর এবং শেষ হওয়ার কথা ২০২৬ সালের ৮ জুলাই। কাজটি তদারকি করছেন কুলিয়ারচরের মেসার্স প্রগতি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. দেলোয়ার হোসেন খোকন।

মো. দেলোয়ার হোসেন খোকন জানান, কাজ শুরু করার আগেই রাস্তার দুই পাশের অবৈধ দখলদারদের জায়গা দখলমুক্ত করার জন্য বলা হয়েছিল। রাস্তার প্রায় ৯০ শতাংশ জায়গা দখলমুক্ত করে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যায়ে পূর্ব আব্দুল্লাহপুর দক্ষিণপাড়ায় এসে সমস্যার সৃষ্টি হয়। ওই এলাকার মৃত সৈয়দ আলীর ছেলে মো. নিজাম উদ্দিন (৩৫) এবং মৃত আলাল মিয়ার ছেলে দুলাল মিয়া ওরফে ইশকান্দর (৩০) ও সেকান্দর (৩৫) রাস্তার দুই পাশ অবৈধভাবে দখল করে ঘর নির্মাণ করায় রাস্তা সরু হয়ে যায়।

রাস্তার দুই পাশ দখলমুক্ত করার জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া হলে মো. নিজাম উদ্দিন তার ঘর ভেঙে জায়গা ছেড়ে দেন। কিন্তু দুলাল মিয়া ওরফে ইশকান্দর ও সেকান্দর কোনোভাবেই জায়গা ছাড়ছেন না। এলাকাবাসী চাপ সৃষ্টি করেও তাদের কাছ থেকে জায়গা দখলমুক্ত করতে পারেনি। এ কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাস্তার নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নিয়ে কাজ বন্ধ রেখেছে। রাস্তা দখলমুক্ত হলেই পুনরায় কাজ শুরু করা হবে।

স্থানীয় ইমরান খান এনায়েত (৫৫), মো. দ্বীন ইসলাম (৪৫), নিজাম উদ্দিন (৩৫), অন্তর ভূইয়া (২৫) ও নজরুল ইসলাম (৪৫) জানান, দীর্ঘদিন ধরে দুলাল মিয়া ওরফে ইশকান্দর ও সেকান্দরকে রেকর্ডকৃত সরকারি রাস্তার জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হলেও তারা তা করছেন না। বরং বিভিন্ন অজুহাতে ঠিকাদারকে বিলম্বিত করছেন। ফলে প্রায় এক সপ্তাহ আগে রাস্তার কাজ বন্ধ করে মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়।

অভিযুক্ত ইশকান্দর ওরফে দুলাল এবং সেকান্দরের মা মোছা. আছিয়া বেগম (৫৫) বলেন, আমার ছেলেরা বাড়িতে থাকে না। আমাদের কাছে কোনো টাকা নেই, তাই ঘর ভেঙে জায়গা খালি করতে পারছি না। আমাদের কয়েকদিন সময় দিলে টাকা জোগাড় করে ঘর ভেঙে রাস্তার জায়গা ছেড়ে দেব।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এস.আর.এম.জি কিবরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রাস্তার সাইটসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান হলে পরবর্তী কাজ শুরু করা হবে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *