দোহার (ঢাকা): এক বুক আশা ও আনন্দ নিয়ে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমেছিলেন হাসান শেখ। কিন্তু সেই পদ্মাই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল তার প্রাণ। গত ১৪ এপ্রিল (রোববার) দোহারের নারিশা এলাকায় নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার ৬ দিন পর ভোলার একটি চর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চৈত্র সংক্রান্তির উৎসবমুখর পরিবেশে বন্ধুদের সঙ্গে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামেন হাসান। এ সময় নদীর তীব্র স্রোতে তিনি হঠাৎ তলিয়ে যান। সঙ্গে থাকা বন্ধুরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। এরপর থেকেই শুরু হয় স্বজনদের উদ্বেগ ও অপেক্ষা।
নিখোঁজের পর ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় জেলেরা দোহার সংলগ্ন পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে টানা ছয় দিন তল্লাশি চালালেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে নদীপথে ভেসে ভোলার একটি এলাকায় তার মরদেহ দেখা যায়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।
নিহত হাসান শেখ উপজেলার খৈরখোলা বাগড়া এলাকার সাহাবুদ্দিন শেখের একমাত্র ছেলে। তার অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবা বাকরুদ্ধ, আর মায়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।
এক প্রতিবেশী বলেন, নদী আমাদের অনেক কিছু দেয়, কিন্তু মাঝে মাঝে এমনও কেড়ে নেয়, যার ক্ষত কোনোদিন পূরণ হয় না। হাসানের মৃত্যু আমাদের আবারও নদীর ভয়ংকর স্রোতের কথা মনে করিয়ে দিল।
এদিকে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, বর্ষা ও ঋতু পরিবর্তনের সময় নদীর স্রোত অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তাই গভীর বা অপরিচিত ঘাটে গোসলের ক্ষেত্রে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

