সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

পলাশবাড়ীতে উপজেলা জামায়াতের আমীরের বিরুদ্ধে গাছ কাটায় অনিয়মের অভিযোগে তদন্তে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন

পলাশবাড়ীতে উপজেলা জামায়াতের আমীরের বিরুদ্ধে গাছ কাটায় অনিয়মের অভিযোগে তদন্তে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় ভুয়া সমবায় সমিতি ও গোপন যোগসাজশে কথিত মনগড়া টেন্ডার দেখিয়ে ১নং কিশোরগাড়ী ইউনিয়নে সামাজিক বনায়নের আওতায় রোপণকৃত গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতের আমীর আবু বক্কর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের সরেজমিনে প্রশাসনিক তদন্ত শুরু হয়েছে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার দুপুর ১১টায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে পলাশবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে।

এর আগে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ৭১ টেলিভিশনে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয় প্রশাসন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গাছ কর্তন কমিটির আহ্বায়ক, উপজেলা জামায়াতের আমীর আবু বক্কর সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ করে। এ সময় অভিযোগকারী দুই ব্যক্তির বক্তব্যও শোনা হয়।

তদন্তকালে দরপত্র-সংক্রান্ত গুরুতর অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে। কাগজপত্রে পাঁচজন দরদাতার অংশগ্রহণ দেখানো হলেও তালিকার ৩ থেকে ৫ নম্বরে থাকা মেসার্স আওজা ট্রেডার্স, মেসার্স আতিয়ার ট্রেডার্স ও মেসার্স ইমি ট্রেডার্সের কর্ণধাররা তদন্ত কমিটির কাছে দাবি করেন, তারা কেউই উক্ত দরপত্রে অংশ নেননি। বিষয়টি লিখিত ও মৌখিকভাবে তদন্ত কমিটিকে অবহিত করা হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ভুয়া দরপত্রের মাধ্যমে ইউনিয়নের প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের পাশে থাকা সামাজিক বনায়নের প্রায় ৮৫৫টি ইউক্যালিপটাস গাছ কাটা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা হলেও মাত্র ৩৩ লাখ টাকায় বিক্রি দেখানো হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে। সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত সময়ে সঠিক তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জরুরি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা কৃষি অফিসার সাজ্জাদ হোসেন সোহেল জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সকল সদস্যকে নিয়ে সরেজমিনে তদন্তকাজ চলমান রয়েছে। উভয়ের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে। যথাসময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *