মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থেকে চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেল ১৫ দিন পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আন্তঃজেলা চোরচক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ সময় চোরাই মোটরসাইকেলের পাশাপাশি দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।
ভুক্তভোগী মো. জাকির হোসেন (৩৮) জানান, তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর পৌরসভার পূর্ব গাইলকাটা এলাকার বাসিন্দা। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল আনুমানিক ৫টা ১৫ মিনিটে নিজ বসতবাড়ির গেটের সামনে তার ব্যবহৃত নীল রঙের Suzuki Gixxer SF 155cc মোটরসাইকেলটি রেখে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন। মাত্র পাঁচ মিনিট পর বাইরে এসে দেখেন মোটরসাইকেলটি চুরি হয়ে গেছে।
পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয়ে ১ মার্চ রোববার কুলিয়ারচর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি নং- ২৭।
এরপর ‘Bike Bazar Brahmanbaria’ নামের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গ্রুপে চোরাই মোটরসাইকেলটি বিক্রির বিজ্ঞাপন ভুক্তভোগীর চোখে পড়ে। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কুলিয়ারচর থানা পুলিশকে অবহিত করলে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী আরিফ উদ্দিনের নির্দেশে এসআই সুজন বিশ্বাস সঙ্গীয় ফোর্সসহ পুলিশের একটি দল তাকে সঙ্গে নিয়ে ওই দিন রোববার (১ মার্চ) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানাধীন সরাইল মাছ বাজার এলাকায় অভিযান চালায়।
সেখানে মোটরসাইকেলসহ তিনজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে পুলিশ। অভিযান চালিয়ে মো. রাসেল (২২) ও মো. মমিনুল হাসান (২৩) নামের দুইজনকে আটক করা হয়। তবে চোরচক্রের আরেক সদস্য আনোয়ার হোসেন (৩৫) কৌশলে পালিয়ে যায়।
আটক মো. রাসেল মিয়া সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার থানার টেবলাই বাজার গ্রামের মো. জসিম উদ্দিন ও হনুফা খাতুনের ছেলে। অপরজন মো. মমিনুল হাসান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার দামাউরা গ্রামের এবং বর্তমানে অরুয়াইল কলেজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. নাসির উদ্দিন ও মাকসুদা বেগমের ছেলে।
পুলিশ জানায়, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে যে, আনোয়ার হোসেনসহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি কুলিয়ারচর এলাকা থেকে মোটরসাইকেলটি চুরি করে সরাইলে এনে বিক্রির চেষ্টা করছিল।
উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এছাড়া একটি আইফোন XR ও একটি বাটন ফোন জব্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার ওসি (তদন্ত) খোকন চন্দ্র সরকার জানান, চোরচক্রটি আন্তঃজেলা পর্যায়ে সক্রিয়। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় ২ মার্চ সোমবার ভুক্তভোগী মো. জাকির হোসেন বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা একজনকে আসামি করে কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ৩(৩)২৬/ইং।
মামলা রুজু হওয়ার পর সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. রাসেল (২২) ও মো. মমিনুল হাসান (২৩)-কে কিশোরগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, এ ঘটনার মাধ্যমে চোরচক্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ চিহ্নিত হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে। তারা দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

