শফিকুল ইসলাম, তালা (সাতক্ষীরা): সাতক্ষীরার তালায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী দুর্গে জামায়াতে ইসলামী হানা দিয়ে লণ্ডভণ্ড করে ফেলেছে। যার কারণে নিজেদের দলীয় ভোটও ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। জামায়াতের ভোটের কৌশলে ধরাশায়ী হয়েছে দলটি।
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব পরাজয়ের কারণ খুঁজতে শুরু করেছেন রাজনৈতিক সচেতন মহল। গত ৫ আগস্টে হাসিনা সরকারের পতনের পরে মাত্রাতিরিক্ত চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা, উপজেলা-ইউনিয়ন নেতাদের জনসমর্থনহীনতা ও মবক্রেসিই এর মূল কারণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা।
মাঠপর্যায়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তালা উপজেলায় ধানের শীষ তুলনামূলক কম ভোট পাওয়ার জন্য উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃত্বই দায়ী। উপজেলায় নেতৃত্ব দেওয়া অধিকাংশ নেতার ওয়ার্ডে ধানের শীষ পরাজিত হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায় নিজের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে জমি দখল, গায়ের জোরে অন্যের গাছ কেটে নেওয়া, টেন্ডারবাজি, ঘের দখল, নিজেই দুটি খাদ্যবান্ধব ডিলারশিপ বাগিয়ে নেওয়া, চাঁদাবাজির টাকায় ভাগ বসানো ও নিজ দলের কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতার সুযোগে বিএনপির দুর্গে জামায়াতে ইসলামী হানা দিয়ে ভোটের ব্যবধান কমিয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলামের বাড়ির কেন্দ্র বিএনপির ঘাঁটি হলেও এবারের নির্বাচনে দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জনরায় দিয়েছে। দলীয় কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে নিজের কেন্দ্রসহ ইউনিয়নে ভরাডুবি হয়েছে।
উপজেলার আরেক প্রভাবশালী নেতা ও ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচন সমন্বয়কারী, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম মফিদুল হক লিটু সন্ত্রাসী বাহিনীর লুটপাট, চাঁদাবাজি, অগ্নিসংযোগ, ঘের দখল ও মবক্রেসি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার কারণে জনসমর্থন হারিয়ে পরাজয় বরণ করতে বাধ্য হয়েছেন।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন ও তার বাহিনীর চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মবক্রেসির কারণে নিজের ওয়ার্ডসহ ইউনিয়নে ভরাডুবি হয়েছে।
তালার খেশরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই ইউনিয়নের একটি মাত্র ওয়ার্ডে বিএনপির ভোট বেশি। উপজেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান এস এম লিয়াকত হোসেনের বাড়ি এই কেন্দ্রে। চাঁদাবাজি ও মবক্রেসির সুযোগে প্রতিপক্ষের হানা দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মীর্জা আতয়ার রহমানের কেন্দ্রে সমন্বয়হীনতা এবং উপজেলা জাতীয় পার্টির বহিষ্কৃত সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম ধানের শীষের পক্ষে কাজ করায় ধরাশায়ী হয়েছে। উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমানের কেন্দ্রেও একই কারণে ভরাডুবি হয়েছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে পাটকেলঘাটা বাজারে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও চাঁদাবাজির কারণে বিএনপির দুর্গে জামায়াতে ইসলামী হানা দিয়ে লণ্ডভণ্ড করে দেওয়ায় ধানের শীষ সুবিধা করতে পারেনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই বলেন, অদক্ষ, অগ্রহণযোগ্য ও জনবিচ্ছিন্ন নেতৃত্ব, দালালচক্র, টেন্ডার সিন্ডিকেট এবং প্রতিটি ইউনিয়নে চাঁদাবাজ বাহিনী গড়ে তোলায় পরাজয় বরণ করতে বাধ্য হয়েছেন এই জনপ্রিয় নেতা। এই উপজেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকাংশ মানুষ ধানের শীষের পক্ষে সমর্থন না দিলে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হতো বলে জানান তারা।

