আতাউর রহমান কাজল (শ্রীমঙ্গল): গাছে গাছে আমের মুকুল ছড়াচ্ছে সুবাসিত, পাগল করা ঘ্রাণ। মৌমাছিরা গুনগুন শব্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এসে গেছে ঋতুরাজ বসন্ত। ছোট-বড় আমগাছে ফুটেছে নতুন মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ, যা মানুষের মন ও প্রাণকে বিমোহিত ও আন্দোলিত করে।
শ্রীমঙ্গলের সাইটুলা, ডেঙ্গারবন, পারেরটং ও উত্তরসুর এলাকা ঘুরে গাছে গাছে দেখা গেছে আমের মুকুল। আমের মুকুলের সৌন্দর্য ও মৌ-মৌ গন্ধ সকলকেই পাগল করে তোলে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে এ মুকুলের ঘ্রাণ। সোনালি রঙের দৃষ্টিনন্দন মুকুল মানুষের মনকে আকৃষ্ট করছে। মুকুলের ভারে নুয়ে পড়েছে আমগাছের ডালপালা।
উপজেলার সাইটুলা গ্রামের অনার্সের ছাত্র উজ্জ্বল কুর্মী বলেন, আমাদের এলাকায় কম-বেশি প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই আমগাছ রয়েছে। এসব গাছে এসেছে মুকুল। তবে ফলন নির্ভর করবে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলনও ভালো হবে।
বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষ হলো আমগাছ। আর ফলের রাজা হলো আম। আমকে ফলের রাজা হিসেবে অভিহিত করার অনেক কারণ রয়েছে। এর অতুলনীয় স্বাদ, প্রাচুর্য, পুষ্টিমান ও বৈচিত্র্যের কারণে আমকে ফলের রাজা বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি জেলাতেই আম উৎপাদিত হয়। স্বাদে, গন্ধে ও পুষ্টিতে আম অতুলনীয়। আমের ইংরেজি নাম ম্যাংগো এবং বৈজ্ঞানিক নাম ম্যাঙ্গিফেরা ইন্ডিকা।
আমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ ও সি, খনিজ পদার্থ এবং ক্যালরি রয়েছে। দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখা ও ত্বক মসৃণ রাখতে ভিটামিন এ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আমের কচি পাতার রস দাঁতের ব্যথা উপশমে সহায়ক। আমের শুকনো মুকুল পাতলা পায়খানা, পুরোনো আমাশয় ও প্রস্রাবের জ্বালা-যন্ত্রণা নিরাময়ে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

