আকতার হোসেন বকুল, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট): নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রয়োজনে জয়পুরহাটের পাঁচবিবির সীমান্তবর্তী ভীমপুর মাঠে বিশাল সোলার প্যানেল স্থাপন করে আলু ও মাছ চাষ করছেন একজন চাষি। সাড়ে ৪ লাখাধিক টাকা খরচ করেও সার্বক্ষণিক প্রয়োজনমাফিক বিদ্যুৎ উৎপাদন না হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে মাছ চাষের পাশাপাশি অন্যান্য চাষাবাদ। বৈদ্যুতিক লাইনের মাধ্যমে গভীর নলকূপের সাহায্যে পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সীমানা জটিলতায় তা বন্ধ হয়ে যায়। সেচ লাইসেন্স পেতে সরকারি অফিস ঘুরেও কাজের কাজ হচ্ছে না। মাছ চাষের পাশাপাশি কৃষি ফসল উৎপাদনে গভীর নলকূপ স্থাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান ভুক্তভোগী এই চাষি।
উপজেলার বাগজানা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আলহাজ খলিলুর রহমানের বড় ছেলে আব্দুল বাছেদ মণ্ডল মাছ চাষের পাশাপাশি কৃষি অফিসের পরামর্শে এ বছর প্রায় ১শ বিঘা জমিতে উন্নতমানের মিউজিকা জাতের বীজ আলু চাষ করেন। রবিবার দুপুরে তার “আরএসবি এগ্রো ফার্ম” সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বিশাল এলাকা জুড়ে আলুর চাষ করা হয়েছে। পাশেই ১০ বিঘা আয়তনের পুকুরে মাছ চাষ করা হলেও ৪ বিঘার পুকুরে শুধু পোনা মাছ চাষ করা হয়। জমি থেকে আলু গাছ কেটে ফেলে দেওয়া হলেও এখনো মাটির নিচ থেকে আলু তোলা হয়নি।
ফার্ম ম্যানেজার মো. মুনছুর মিয়া এর কারণ জানিয়ে বলেন, গাছ কাটার ১০-১৫ দিন পর তুললে আলুর চামড়া বা খোসা মোটা, পূর্ণ ও শক্ত হয়। যেহেতু আলুগুলো শুধু বীজ হিসেবে ব্যবহার করা হবে, এমনটি করলে বীজ ভালো থাকবে ও সংরক্ষণে সুবিধা হবে। জমি তৈরি, বীজ বপন, সার, কীটনাশক, শ্রমিকসহ যাবতীয় খাতে প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলেও জানান ম্যানেজার মুনছুর। বিঘাপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ মণ বীজ আলু পাওয়া যাবে। বাজারে আলুর ভালো দাম পেলে লাভের আশা করছেন তারা।
মাছ চাষ, আলু চাষ ও আমন-ইরি ধান চাষাবাদে সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম পানি সরবরাহ হচ্ছে। সূর্যের আলো যতক্ষণ থাকে, ততক্ষণই পানি পাওয়া যায়- এতে ফার্মের অনেক ক্ষতি হচ্ছে।
ফার্মের মালিক বাছেদ মণ্ডল বলেন, এত টাকা ব্যয় করেও পর্যাপ্ত পানির অভাবে ফার্মটি সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে যেটুকু সম্ভব, তা যেন দইয়ের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো চেষ্টা মাত্র। সেচ লাইসেন্সের আবেদন করেছি, কিন্তু সীমানা জটিলতায় তা আটকে আছে। আমার ফার্মটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে পানির সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসিম উদ্দিন জানান, চলতি বছর উপজেলায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আলুর চাষ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস চাষিদের প্রণোদনা প্রদান ও পরামর্শ দিয়ে আসছে।

