বায়েজিদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা): গাইবান্ধা জেলা কারাগারে বন্দি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পলাশবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি ও পলাশবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ শামিকুল ইসলাম সরকার লিপন মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
এ বিষয়টি নিশ্চিত করে গাইবান্ধা জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সেখান থেকে তাঁর মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে।
একজন নম্র, ভদ্র, শান্তিপ্রিয় ও স্বাধীনচেতা মানুষ হিসেবে তিনি ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাকালীন সময়ে পলাশবাড়ী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। এরপর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০১৬ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৮ সাল থেকে অদ্যাবধি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গণতন্ত্রকামী ও উদার মনের এ রাজনীতিবিদের দ্বারা পলাশবাড়ীতে কোনো মানুষ কখনোই রাজনৈতিক হয়রানি, নির্যাতন বা নিপীড়নের শিকার হয়নি। অথচ তাকেই আজ কারাগারে বিনা চিকিৎসায় প্রাণ দিতে হলো। পলাশবাড়ীর স্থায়ী বাসিন্দা তিনি নিজ উপজেলা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে গাইবান্ধা সদর থানার জিআর মামলা নং-১৭৬/২৫-এ হাজতি হিসেবে কারাবন্দি ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, একটি মিথ্যা মামলায় গাইবান্ধা জেলা কারাগারে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় দেড় বছর তিনি হাজতি হিসেবে বন্দি ছিলেন। জেলে থাকাবস্থায় শনিবার দিনগত রাত ১টার দিকে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁর মৃত্যুতে পলাশবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তাঁর পরিবারকে এ গভীর শোক সইবার ক্ষমতা দিন এবং জীবদ্দশার সকল গুনাহ মাফ করে তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন—আমিন।
উল্লেখ্য, উপাধ্যক্ষ শামিকুল ইসলাম সরকার লিপন পলাশবাড়ী পৌর শহরের বৈরী হরিণমারী গ্রামের মরহুম জোব্বার সরকারের তৃতীয় পুত্র। তিনি পলাশবাড়ী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক এবং পরে উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

