দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা): আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-০১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তার নিজ বাড়িতে দোহার-নবাবগঞ্জের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ ইশতেহার ঘোষণা করেন।
ইশতেহারে তিনি বৈষম্যহীন, আধুনিক দোহার-নবাবগঞ্জ গঠনের অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকার পাশে থেকেও দোহার-নবাবগঞ্জ এখনো বহু নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এ অঞ্চলকে দেশের অন্যতম পরিকল্পিত, সমৃদ্ধ ও আধুনিক এলাকায় পরিণত করতে কাজ করবেন তিনি।
ইশতেহারে শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশে এলাকার সব স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও এতিমখানার সংস্কার, প্রতিটি মসজিদ ও মাদ্রাসায় লাইব্রেরি স্থাপন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা বৃত্তি চালু, কারিগরি ও আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক ঐক্য জোরদার এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে দোহার ও নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, বিশেষায়িত সেবা চালু, দরিদ্র, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য স্বাস্থ্যকার্ড চালু এবং ২০২৭ সালের মধ্যে আই ক্যাম্পের মাধ্যমে চক্ষু সমস্যামুক্ত এলাকা গড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণে প্রবাসীদের সম্পদ ও সম্মান রক্ষায় আইনগত সহায়তা কেন্দ্র, নিরাপদ বিনিয়োগের সুযোগ এবং দোহার-নবাবগঞ্জে পৃথক ‘এক্সপ্যাট সাপোর্ট সেল’ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিবহন ও অবকাঠামো উন্নয়নে সব রাস্তা, সেতু ও কালভার্ট সংস্কার, ঢাকার সঙ্গে দ্রুত ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, গ্রামীণ সড়ক ও বাজার অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং প্রতিটি গ্রামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণ, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, ভর্তুকিযুক্ত সার-বীজ-কীটনাশক, স্বল্পসুদে কৃষিঋণ এবং নদীভাঙন রোধ ও সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন, প্রশিক্ষণ, বাজার সম্প্রসারণ, রপ্তানি সুযোগ সৃষ্টি এবং ‘হেরিটেজ টেক্সটাইল পার্ক’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
ইছামতী নদীর পুনরুজ্জীবনে ড্রেজিং, পদ্মা নদীর সঙ্গে সুইস গেট সংযোগ, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং তীররক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
জ্বালানি খাতে প্রতিটি ঘরে গ্যাস সংযোগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং গ্যাস লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
নারী উন্নয়নে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নেতৃত্বে অংশগ্রহণ নিশ্চিত, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আইনি সহায়তা সেল, বিধবা ও অসহায় নারীদের জন্য ভাতা এবং উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ প্রকল্প চালুর কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ‘ওপেন বাজেট সভা’ চালু, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

