বায়েজিদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ কে সামনে রেখে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য প্রথমে অনলাইন নীতিমালা পদ্ধতি চালু করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ পদ্ধতিতে সাংবাদিকরা ব্যাপক হয়রানির শিকার হন। পরে সাংবাদিকদের দাবির মুখে অনলাইন নীতিমালা পদ্ধতি বন্ধ করে ম্যানুয়ালি সাংবাদিক পর্যবেক্ষণ কার্ড প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসারদের দায়িত্ব প্রদান করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। আবেদনের সর্বশেষ সময় নির্ধারণ করা হয় ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
বিগত জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গাইবান্ধা জেলার ৭টি উপজেলায় প্রায় তিন শতাধিক সাংবাদিকের মাঝে পর্যবেক্ষণ কার্ড বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে পেশাদার সাংবাদিকদের চেয়ে ভুয়া কার্ডধারী, অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল এবং রাজনৈতিক দলের অসংখ্য নেতাকর্মী ছিল। যদি এসব কার্ড যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের গোয়েন্দা শাখায় পাঠিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করে তারপর পর্যবেক্ষণ কার্ড ইস্যুর অনুমতি প্রদান করেন।
প্রতিবারের ন্যায় এবারও নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য সাংবাদিকদের একই পদ্ধতি অবলম্বন করে আবেদন দাখিল করতে বলেছে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার।
গত কয়েকদিন তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, সাংবাদিক নন- এমন ব্যক্তিরা কম্পিউটার দোকান থেকে প্রেস কার্ড ও প্রত্যয়নপত্র তৈরি করে নিচ্ছেন। অনেকে শুধু নির্বাচনের দিন মোটরসাইকেল চলাচল ও নির্বাচনে তাদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালানোর জন্য অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল থেকে টাকা দিয়ে কার্ড তৈরি করে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেছেন। পেশাদার সাংবাদিক কার্ডের মেয়াদ শেষ- এমন দুই-একজনকেও কার্ড ও প্রত্যয়ন তৈরি করতে দেখা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলার প্রথম সারির বেশ কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, অতীতের ন্যায় যাচাই-বাছাই না করে গণহারে পর্যবেক্ষণ কার্ড প্রদান করলে ভোটকেন্দ্রগুলোতে মারাত্মক ঝুঁকির সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি তথ্য বিভ্রাট ঘটিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সম্ভাবনাও রয়েছে।
ভুয়া অনলাইন, ডিএফপি-ভুক্ত পত্রিকা কিংবা নিবন্ধিত টেলিভিশন চ্যানেল নয়- এমন ব্যক্তিদের আবেদন বাতিল করা জরুরি। শুধু তাই নয়, কেউ প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করলে বা ভুয়া তথ্য সরবরাহ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তারা জেলা পুলিশ বিভাগের গোয়েন্দা শাখার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
যদিও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন পেশাদার সাংবাদিককে শতভাগ নিশ্চিত হয়েই তারপর ওই সাংবাদিককে পর্যবেক্ষণ কার্ড প্রদান করা হবে।

