কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: ব্যাপক উৎসাহ–উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দিন দিন উদ্বেগ বাড়ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে কুষ্টিয়া মডেল থানা থেকে লুট হওয়া সব আগ্নেয়াস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়ায় ভোটের পরিবেশ প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কুষ্টিয়ার প্রার্থীরা।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়া মডেল থানা থেকে মোট ৫৫টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে ৩৮টি উদ্ধার করা হলেও এখনো ১৭টি অস্ত্রের সন্ধান মেলেনি। গুলির সঠিক হিসাবও পাওয়া যায়নি।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আমলাপাড়া এলাকার ভোটার সুজন কর্মকার বলেন, নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা প্রয়োজন। তা না হলে নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মিলপাড়া এলাকার ভোটার হাবিবুর রহমান বলেন, কুষ্টিয়া সদর থানা থেকে লুটকৃত অস্ত্রগুলো উদ্ধার না হলে ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করবে। নির্বাচনের সময় এসব অবৈধ অস্ত্র মানুষের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করতে পারে।
থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুফতি আমির হামজা। তিনি বলেন, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার জাকির সরকার বলেন, “এখনো কেন অস্ত্রগুলো উদ্ধার হয়নি, তা বোধগম্য নয়। অস্ত্রগুলো জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার করা প্রয়োজন। এসব অস্ত্রের কারণে নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।”
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন জানান, নির্বাচনে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কুষ্টিয়ায় বিজিবি ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে সহায়তা করবে বলেও তিনি জানান।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে কাজ চলছে।

