সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী আজিজুল হকের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন

তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী আজিজুল হকের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন

শফিকুল ইসলাম, তালা (সাতক্ষীরা): সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী আজিজুল হকের বিরুদ্ধে সমবায় সমিতি আইন ২০০১ ও সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯ লঙ্ঘন করে হাসপাতালে কর্মরত চাকরিজীবীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় ও অর্থ গ্রহণের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জন আব্দুস সালাম স্বাক্ষরিত সিএস/সাত/শ-১/২০২৬/১/১(৬) নম্বর স্মারকে ডা. মো. ফরহাদ জামিলকে সভাপতি ও ডা. জয়ন্ত সরকারকে সদস্য করে দুই সদস্যবিশিষ্ট এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

সূত্র জানায়, তালা হাসপাতালের প্রধান সহকারী আজিজুল হক নিজেকে সৎ ও আদর্শবান দাবি করলেও হাসপাতালের কর্মচারীদের ওভারটাইমের ১০ শতাংশ টাকা কেটে নিজের পকেট ভরেন। অধিকাংশ সময় হাসপাতালের কাজ ফেলে চায়ের দোকানে আড্ডা দিতে দেখা যায় তাকে। এলাকায় ‘জামাই’ ও ‘কমন দুলাভাই’ খ্যাত আজিজুল হক বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে সাংবাদিকদের হুমকি-ধামকি দিয়ে ‘সাংঘাতিক’ বলে সম্বোধন করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুযোগে তিনি হাসপাতালকে দুর্নীতির আতুরঘরে পরিণত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় হওয়ায় দাপট দেখিয়ে রীতিমতো হাসপাতালকে জিম্মি করে রেখেছেন তিনি। এছাড়াও হাসপাতালের আর্থিক খাতের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতির বীজ বপন করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করে তালা বাজার আদর্শ সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সমবায় অধিদপ্তরের ২০২৪ সালের অডিট রিপোর্টে সভাপতি হিসেবে তার নাম পাওয়া গেছে। অনেক ডিপোজিট ভাউচারে সভাপতি হিসেবে আজিজুল হকের স্বাক্ষর রয়েছে। অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে হাসপাতালে কর্মরত পঞ্চাশজনের বেশি ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দুই বছর আগে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও ভুক্তভোগীরা এখনো টাকা না পেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

এ প্রসঙ্গে তালার সচেতন মহল আজিজুল হকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুবিচার দাবি করেছেন।

একটি সূত্র জানায়, তালা হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের অতিরিক্ত ভাড়ার অংশ থেকেও তিনি নিয়মিত ‘মাশোয়ারা’ গ্রহণ করেন। অথচ লাইট সংকটের কারণে সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনটি দিনের পর দিন অচল পড়ে আছে। এতে গরিব ও অসহায় রোগীরা এই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, আদর্শ সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতির সভাপতি আজিজুল হক যে সরকারি চাকরিজীবী, তা জানা ছিল না। কোনো সরকারি কর্মকর্তা নিবন্ধিত সমবায় সমিতির দায়িত্ব পালন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে অভিযুক্ত প্রধান সহকারী আজিজুল হক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। আমি জানি না কবে বা কখন আমি সমিতির সভাপতি হয়েছি। স্বহস্তে স্বাক্ষরের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাকে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছিল, তাই করেছি। পরে আমার নামে সভাপতির সিল তৈরি করে সেই সিল আমার স্বাক্ষরের নিচে ব্যবহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *