সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

বায়েজিদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা): বিগত দ্বাদশ জাতীয় সংসদের পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকার গঠিত হওয়ার পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের ঐতিহাসিক পতন ঘটে।

এরপর নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়, যারা একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে দেশের বৃহত্তর দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতারা আত্মগোপনে থাকায় দলটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছে না। ফলে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোটকে ‘তুরুপের তাস’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বাংলাদেশ ৩১, গাইবান্ধা–০৩ (পলাশবাড়ী–সাদুল্লাপুর) আসনে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্রসহ মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন।

গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে রিটার্নিং অফিসার ও পলাশবাড়ী–সাদুল্লাপুর সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক, জামায়াতে ইসলামীর জেলা সূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কাওছার মো. নজরুল ইসলাম (লেবু), জাতীয় পার্টি মনোনীত ইঞ্জিনিয়ার মইনুর রাব্বী চৌধুরী (রুমান), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এটিএম আওলাদ হোসাইন, গণঅধিকার পরিষদের মো. সুরুজ্জামান সরকার, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. ছিদ্দিকুল ইসলাম, কমিউনিস্ট পার্টির আব্দুল্লাহ আদিল নান্নু, এবি পার্টির মনজুরুল হক সাচ্ছা, স্বতন্ত্র প্রার্থী এএসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমান বিএসসি।

৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ১০ জনের মধ্যে ৬ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন। তারা হলেন- অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক,
অধ্যক্ষ আবুল কাওছার মো. নজরুল ইসলাম (লেবু), ইঞ্জিনিয়ার মইনুর রাব্বী চৌধুরী (রুমান), এটিএম আওলাদ হোসাইন, মো. সুরুজ্জামান সরকার এবং মো. ছিদ্দিকুল ইসলাম।

বাকি ৪ জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন- আব্দুল্লাহ আদিল নান্নু, মনজুরুল হক সাচ্ছা, এএসএম খাদেমুল ইসলাম খুদি ও আজিজার রহমান বিএসসি।

পরবর্তীতে মহামান্য হাইকোর্টের আদেশে খাদেমুল ইসলাম খুদি ও আজিজার রহমান বিএসসির প্রার্থিতা পুনর্বহাল করা হয়। ফলে মোট প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়ায় ৮ জন।

এদিকে নির্বাচন ঘিরে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ইতিহাস, আসনের পরিসংখ্যান ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়- গাইবান্ধা-০৩ আসনটি রংপুরের কৃতী সন্তান, উত্তরবঙ্গের মাটি ও মানুষের নেতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু মরহুম হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দল জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। প্রয়াত ড. টি. আই. এম. ফজলে রাব্বী চৌধুরী জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১, ১২ জুন ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে মোট ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই আসনে জাতীয় পার্টির কোনো পরাজয় হয়নি।

বিএনপি ও জামায়াতসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের তিনটি নির্বাচনে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়।

বর্তমানে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় দেশের শীর্ষ অবস্থানে থাকা বিএনপি জোরেশোরে প্রচার চালাচ্ছে।

বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ, বগুড়ার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক। দীর্ঘ ১৭ বছর এলাকায় কাজ করায় তিনি সাধারণ ভোটারদের কাছে আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির প্রতি মানুষের আবেগ ও ভালোবাসা বেড়েছে বলে ভোটাররা মনে করেন। তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন তরুণ ভোটারদের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবুল কাওছার মো. নজরুল ইসলাম (লেবু)। তিনি দলের দুর্দিনে কারাবরণ ও নির্যাতন সহ্য করে নেতাকর্মীদের সংগঠিত রেখেছেন। ইসলামী দলগুলোর ঐক্যের কারণে জামায়াত এবার বেশি আশাবাদী।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়েছেন প্রয়াত ড. টি. আই. এম. ফজলে রাব্বী চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ পুত্র ইঞ্জিনিয়ার মইনুর রাব্বী চৌধুরী (রুমান)। দলটির দাবি, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এই আসনে জাপাই বিজয়ী হবে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী খাদেমুল ইসলাম খুদি ও আজিজার রহমান বিএসসি নিজ নিজ ভোটব্যাংক দিয়ে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রভাব ফেলতে পারেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, মূলত ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যেই হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই; অন্য প্রার্থীরা ব্যবধান কমাবে মাত্র।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গাইবান্ধা–৩ আসনে মোট ভোটার ৫,০৬,১৮৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২,৪৮,৯০২ জন, নারী ২,৫৭,২৭৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯ জন।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *