সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

পলাশবাড়ীতে বেসরকারি স্কুলে লাগামহীন ফি বৃদ্ধি: দিশেহারা অভিভাবক মহল

পলাশবাড়ীতে বেসরকারি স্কুলে লাগামহীন ফি বৃদ্ধি: দিশেহারা অভিভাবক মহল

বায়েজিদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা): গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে (কিন্ডারগার্টেন ও নন-এমপিও স্কুল) টিউশন ফিসহ অন্যান্য শিক্ষা ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বছরের শুরুতেই ভর্তি ফি, সেশন চার্জ ও মাসিক বেতনের এই বাড়তি চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ও মধ্যবিত্ত আয়ের অভিভাবকরা।

সরেজমিনে অনুসন্ধান ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে গড়ে ওঠা বেসরকারি স্কুলগুলো কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই নিজস্ব সিদ্ধান্তে ফি নির্ধারণ করছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর অনেক প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও সেশন ফি বাবদ অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাসিক টিউশন ফি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শুধু বেতন বা ভর্তি ফিই নয়—স্কুলগুলো থেকে নির্দিষ্ট লাইব্রেরি বা দোকান থেকে চড়া দামে ডায়েরি, সিলেবাস, খাতা ও ইউনিফর্ম কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি বইয়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত চার থেকে পাঁচটি বই পাঠ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা শিশুদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করার পাশাপাশি অভিভাবকদের অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলছে।

এ ধরনের অভিযোগ পলাশবাড়ীর গ্রীনফিল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ আরও কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উঠেছে।

পলাশবাড়ী শহরের একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে হোপনিউজ২৪ ডটকমকে বলেন, “জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে সংসার চালানোই কঠিন। তার ওপর হঠাৎ করে স্কুলের বেতন ও সেশন ফি বেড়ে যাওয়ায় আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। সন্তানদের পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।”

স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ভবন ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও শিক্ষকদের বেতন বাড়াতে হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের মান বজায় রাখতে ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করেই ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

তবে সচেতন মহলের মতে, সরকারি কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও কার্যকর তদারকি না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠান একপ্রকার ‘শিক্ষা ব্যবসায়’ মেতে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার অনেক বেসরকারি স্কুল মানসম্মত শিক্ষক ছাড়াই উচ্চহারে ফি আদায় করছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবকরা উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফি নির্ধারণে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *