ছোটন বিশ্বাস (খাগড়াছড়ি): খাগড়াছড়ি বন বিভাগের সহায়তায় একটি এশিয়াটিক ব্ল্যাক বিয়ার (কালো ভালুক), ছয়টি মায়া হরিণ ও দুটি বানর উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার তেঁতুলতলা এলাকায় খাগড়াছড়ি বন বিভাগ এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রামের যৌথ অভিযানে সাবেক ইউপি সদস্য নবদ্বীপ চাকমার বাগানবাড়ি থেকে প্রাণীগুলো উদ্ধার করা হয়।
এ সময় সাবেক ইউপি সদস্য নবদ্বীপ চাকমা বলেন, এলাকার মানুষজন বন থেকে এসব প্রাণী শিকার করে মেরে ফেলত। আমাকে অনেকে খবর দিলে আমি প্রাণীগুলোকে লালন-পালন করে বড় করি এবং পরে বন বিভাগকে বিষয়টি জানাই। পরে জানতে পারি, বন্যপ্রাণী ধরা বা মারা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাছাড়া এসব প্রাণীর বিচরণের জন্য বনের প্রয়োজন রয়েছে। তাই আমি খাগড়াছড়ি বন বিভাগকে বিষয়টি অবগত করি।
খাগড়াছড়ি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা জানান, খাগড়াছড়ি বন বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে বন্যপ্রাণী রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে খাগড়াছড়ি বন বিভাগ এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রামের যৌথ অভিযানে প্রাণীগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বন্যপ্রাণী ধরা বা হত্যা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। যিনি এতদিন প্রাণীগুলো লালন-পালন করেছেন, তিনি তার ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে লিপ্ত হবেন না বলে আশ্বস্ত করেছেন।
এ সময় তিনি বলেন, মানুষের যেমন বেঁচে থাকার অধিকার আছে, তেমনি প্রাণীদেরও প্রকৃতিতে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। এসব প্রাণী প্রকৃতির অলংকার। দিন দিন বন উজাড় ও বন্যপ্রাণী শিকারের কারণে প্রকৃতি থেকে এসব প্রাণী হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা যদি এখনই প্রাণীগুলোকে রক্ষা না করি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এসব প্রাণী সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে না। বন ও বন্যপ্রাণী প্রকৃতিতে থাকলে পরিবেশ সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ থাকে। তাই এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরে খাগড়াছড়ি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলোকে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের প্রাকৃতিক বনে অবমুক্ত করার জন্য হস্তান্তর করেন।

