মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর পৌর এলাকার বড়খারচর গ্রামের বাসিন্দা, কুলিয়ারচর প্রতিবন্ধী সেবা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, নারী উদ্যোক্তা ও সাংবাদিক ফারজানা আক্তার ‘অদম্য নারী পুরস্কার-২০২৫’ পেয়েছেন। সমাজ উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
‘নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নারী জাগরণ ও নারী অধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ১৪৫তম জন্ম ও ৯৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও রোকেয়া দিবসের অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়।
৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী অদম্য ৫ নারীকে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদ ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। এদের মধ্যে সাংবাদিক ফারজানা আক্তার একজন অদম্য নারী হিসেবে নির্বাচিত হন।
অন্যান্য সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন- সফল জননী: মরিয়ম নেসা, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা নারী: মোছা. আসমা বেগম, অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী: মহামায়া দাস, শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে অবদান রাখা নারী: চৈতী রাণী দাস।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. ইয়াসিন খন্দকার সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ মুশফিকুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তমাল কান্তি মল্লিক, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মাসুদ রানা, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এসআরএম জি কিবরিয়া, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহবুবা সিদ্দিকী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সাংবাদিক মো. নাঈমুজ্জামান নাঈম ও সাংবাদিক মো. সবুজ মিয়াসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
উল্লেখ্য, ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের পায়রাবন্দে জন্মগ্রহণ করেন বেগম রোকেয়া। ১৯৩২ সালের একই দিনে কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ক্ষণজন্মা এই মহীয়সী নারীর জন্ম ও মৃত্যুদিনকে ঘিরে প্রতিবছর ব্যাপক আয়োজনের মাধ্যমে পালন করা হয় রোকেয়া দিবস।

