আতাউর রহমান কাজল (শ্রীমঙ্গল): দেশের শীতলতম এলাকা হিসেবে পরিচিত চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলজুড়ে নেমে এসেছে শীত। বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সকাল ৬টা ও ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে। আবহাওয়া অফিস জানায়, চলতি শীত মৌসুমে এটিই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গত কয়েকদিন ধরেই শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমে আসছিল।
শ্রীমঙ্গলে দিনের বেলায় কিছুটা গরম লাগলেও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে শীত অনুভূত হতে থাকে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতও বাড়ে। বিশেষ করে উপজেলার চা-বাগানগুলোতে শীতের তীব্রতা বেশি। দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষ ও ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে শ্রীমঙ্গলের লেপ-তোষকের দোকানগুলোতে লেপ-তোষক বানানোর ধুম লেগেছে। ব্যস্ত সময় পার করছেন দোকানিরা। কারিগররাও লেপ-তোষক বানাতে দিনরাত কাজ করছেন। এদিকে শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতেও গরম কাপড়ের বেচাকেনা বেড়েছে।
শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে বদলে যাচ্ছে এখানকার প্রকৃতির রূপ। সকাল-সন্ধ্যায় চা-বাগানজুড়ে নেমে আসে হালকা কুয়াশা। ভোরের আলোয় গাছের পাতা ও ঘাসে ঝিলমিল করে শিশিরবিন্দু। চা-রাজ্যের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা।
বড়গাঙিনা সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংগঠনের সভাপতি মো. মিন্নত আলী বলেন, ‘শীতের শুরুতেই বাইক্কা বিলে অতিথি পাখির দেখা মিলছে। শীত যত বাড়ছে, অতিথি পাখির সংখ্যাও তত বাড়ছে। কিছুদিন পর ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি এসে বিলজুড়ে মুখরতা ছড়িয়ে দেবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হাওর, খাল-বিল ও শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন চা-বাগানের লেকগুলোতেও অতিথি পাখির আগমন শুরু হয়েছে। তাদের কিচিরমিচিরে এসব স্থানগুলো ধীরে ধীরে প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে।
ঢাকা আবহাওয়া অধিদপ্তরের রেকর্ড অনুযায়ী, শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছিল ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মাত্র ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এছাড়া ১৯৬৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ৩.৩ ডিগ্রি, ২০০৩ সালের ২৩ জানুয়ারি ৫ ডিগ্রি, ২০০৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর ৫.২ ডিগ্রি এবং ১৯৯৫ সালের ৪ জানুয়ারি ও ২০০৭ সালের ১৭ জানুয়ারি ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল।

