আব্দুস সালাম (দিনাজপুর): সরকারি ব্যাংকের চরম অবহেলা ও নথিপত্রের ভুলের শিকার হয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন সোনালী ব্যাংকের একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ কর্মকর্তা। যে ব্যক্তিগত নথির ভিত্তিতে তিনি এত দিন ব্যাংকের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন, সেই একই নথিতে ‘জন্মতারিখ ভুল’ থাকার অজুহাতে তাঁকে নতুন পেনশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দিনাজপুর পুলহাট সোনালী ব্যাংক শাখার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক চৌধুরী (অবসর গ্রহণ: ২০০৮ সাল) গত বুধবার (১২ নভেম্বর, ২০২৫) এই প্রতিনিধিকে জানান, তিনি যথারীতি এককালীন অবসরকালীন পেনশন গ্রহণ করেছিলেন।
তৎকালীন সরকারের প্রবর্তিত নতুন পেনশন নিয়ম অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি ১৬ বছর জীবিত থাকলে তিনি পুনরায় পেনশন ভোগ করার সুযোগ পাবেন। এই শর্ত পূরণ হওয়ায় প্রবীণ কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক চৌধুরী ২০২৩ সালে তাঁর পুনরায় পেনশন চালুর জন্য আবেদন করেন।
কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি তাঁর ন্যায্য পেনশন থেকে বঞ্চিত রয়ে গেলেন। এই বিষয়ে তিনি রাজধানী ঢাকার সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় যোগাযোগ করলে তাঁকে জানানো হয়, তাঁর নথিতে জন্মতারিখ ভুল থাকার কারণে পেনশন প্রাপ্তিতে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্যে ভুক্তভোগী কর্মকর্তা প্রশ্ন তোলেন, যে নথি ব্যবহার করে আমি আজীবন ব্যাংকের সমস্ত সুবিধা ভোগ করলাম, এমনকি এককালীন পেনশনও পেলাম, সেই একই নথিতে হঠাৎ করে আজ কেন ভুল খোঁজা হচ্ছে? এটি কি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত গাফিলতি নয়?
মো. আবু বক্কর সিদ্দিক চৌধুরী অভিযোগ করেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নিজস্ব প্রশাসনিক ভুলের কারণে সৃষ্ট এই জটিলতার শিকার হয়ে তিনি গত প্রায় দুই বছর ধরে তাঁর প্রাপ্য পেনশন থেকে বঞ্চিত। এর ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে তাঁকে বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন ও মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
প্রবীণ এই কর্মকর্তা অবিলম্বে প্রধান উপদেষ্টা এবং সোনালী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি আশা করছেন, দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপে তাঁর নথিপত্রের এই ‘ভুল’ শুধরে যাবে এবং তিনি তাঁর প্রাপ্য পেনশন সুবিধা ফিরে পাবেন।

