সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

নীতিমালা লঙ্ঘন ও অনৈতিক লেনদেনে অষ্টগ্রামে ৭৪টি সেচ প্রকল্পে ম্যানেজার নিয়োগের প্রতিবাদে মানববন্ধন

নীতিমালা লঙ্ঘন ও অনৈতিক লেনদেনে অষ্টগ্রামে ৭৪টি সেচ প্রকল্পে ম্যানেজার নিয়োগের প্রতিবাদে মানববন্ধন, কালের বার্তা

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার কাস্তুল ভাতশালা বৃহত্তর সেচ প্রকল্পসহ উপজেলার ৭৪টি সেচ স্কিমে ম্যানেজার নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘন, অনিয়ম ও অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক ও বিএডিসির জেলা কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি এর প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় কৃষক ও ম্যানেজার প্রার্থীরা।

সোমবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে অষ্টগ্রাম উপজেলা জিরোপয়েন্ট এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, উপজেলা সেচ কমিটি, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট বিএডিসি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যা কৃষকদের স্বার্থের পরিপন্থী এবং সেচ স্কিমের নীতিমালা লঙ্ঘনের সামিল।

ম্যানেজার পদে আবেদনকারীরা জানান, তারা নিয়ম অনুযায়ী আবেদন জমা দেন। প্রার্থী সংখ্যা বেশি হওয়ায় তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা সেচ প্রকল্পের সভাপতির কাছে নির্বাচনের দাবি জানান। ইউএনও আশ্বাস দিয়েছিলেন, উপজেলা সেচ কমিটির সভা শেষে অভিযোগ থাকা স্কিমগুলোর মধ্যে কাস্তুল ভাতশালা বৃহত্তর সেচ প্রকল্পের বিষয়েও নীতিমালা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, ৯ নভেম্বর সভা হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই ৬ নভেম্বর বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী আসাদুল হক সারাদিন আত্মগোপনে থেকে ভৌতিকভাবে অফিসের নোটিশ বোর্ডে স্কিমের ম্যানেজার নিয়োগ তালিকা প্রকাশ করেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এতে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

কৃষকদের দাবি, কাস্তুল ভাতশালা বৃহত্তর সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার পদে আওয়ামী লীগের সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের ছেলে রাজনকে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলার অন্যান্য সেচ প্রকল্পে নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রায় ৫০ শতাংশই আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কর্মী বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অষ্টগ্রামের ৭৪টি সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার নিয়োগে প্রায় ৪ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাটি অঞ্চলের কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

আবেদনকারীরা মানববন্ধনের মাধ্যমে দাবি করেছেন, কাস্তুল ভাতশালা বৃহত্তর সেচ প্রকল্পের নিয়োগ বাতিল করে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পুনর্বিবেচনা করা হোক। পাশাপাশি তারা কৃষকদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নতুন ম্যানেজার নিয়োগের আহ্বান জানান।

কৃষকদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বক্তব্য রাখেন জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ও অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. আর. চৌধুরী শিপু, উপজেলা সহ-সভাপতি হাজী শেখ জসীম, কাস্তুল ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম কিসমত, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মাহফুজ আলম দানা, মহরম আলী মেম্বার ও কৃষক রায়হান প্রমুখ।

কৃষকদের ভাষায়, সেচ প্রকল্প কৃষকদের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এখানে রাজনৈতিক প্রভাব নয়, কৃষকদের মতামতের ভিত্তিতেই নীতিমালা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএডিসি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, অফিসটি তালাবদ্ধ। উপসহকারী প্রকৌশলী আসাদুল হকের মোবাইল নম্বরেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এম. শাহীন বলেন, এটা প্রশাসনের বিষয়, আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তাছাড়া যারা মানববন্ধন করেছেন, তাদের অনেকেই সুবিধাবাদী ও অসৎ ব্যক্তি।

বিএডিসি কিশোরগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসারফ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এটি উপজেলা সেচ স্কিম কমিটির সভাপতি ইউএনওর দায়িত্ব।

অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান অসুস্থজনিত ছুটিতে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *