আব্দুস সালাম (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলায় এ বছর আখ চাষে এক নতুন সাফল্যগাথা রচিত হয়েছে। এসআরডিআই (SRDI)-এর অধীনে কান্তা ইক্ষু খামারসহ মোট তিনটি খামারে এবার আখের ফলন হয়েছে বাম্পার। শুধু তাই নয়, আখের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে মরিচ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটোসহ অন্যান্য সবজি চাষ করে কৃষকেরা পাচ্ছেন দ্বিগুণ লাভ, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে এনেছে এক নতুন গতি।
কাহারোল উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এসআরডিআই-এর কান্তাসহ বিভিন্ন ফার্মে মোট ৫০০ একর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। ডিএসআরআই-৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৮ এবং ঈশ্বরদী-৩৭, ৩৯-এর মতো উন্নত জাতের আখ চাষ করা হচ্ছে।
কৃষকদের ভাষ্যমতে, প্রতি বিঘা জমিতে আখ চাষে খরচ হয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা, যেখানে আখ বিক্রি হয় প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে, ফুলকপি বা টমেটোর মতো সাথী ফসল বিক্রি করে বাড়তি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে।
- প্রতি বিঘা আখ চাষে খরচ: ৩০,০০০ টাকা
- আখ ও সাথী ফসল বিক্রি করে মোট আয়: ১,৩০,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ টাকা
- নীট লাভ (প্রতি বিঘায়): ১,০০,০০০ থেকে ১,২০,০০০ টাকা!
সদরপুরের কৃষক হান্নান জানিয়েছেন, সুগার মিলের জমি লিজ নিয়ে আখের সাথে সাথী ফসল হিসেবে ফুলকপি, বাঁধাকপি আবাদ করে ভালোই লাভ হচ্ছে। এক জমিতেই দুই ফসলের টাকা পাচ্ছি।
ফলন ভালো হওয়া সত্ত্বেও কৃষকদের মধ্যে এখন ঘোর দুশ্চিন্তা। কৃষক মিজানুর রহমান, হাসান আলী, জসিমউদ্দিন, হীরালাল সরকারসহ এলাকার অনেক কৃষক জানান, সেতাবগঞ্জ সুগার মিল বন্ধ থাকার কারণে কান্তা ইক্ষু ফার্মের আখগুলি ঠাকুরগাঁও সুগার মিলে সরবরাহ করতে হচ্ছে। এতে সময়মতো পুঁজি হাতে না আসায় তারা সঠিকভাবে আবাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন না। আখ উৎপাদন হচ্ছে, ফলন ভালো, লাভও হচ্ছে কিন্তু মিল বন্ধ থাকায় আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছি। দ্রুত সেতাবগঞ্জ সুগার মিল চালু করা হোক!
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ জানান, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার, সাথী ফসল হিসেবে সবজি চাষ এবং কৃষি অফিসের উদ্যোগে দেওয়া প্রশিক্ষণের মাধ্যমেই কৃষকেরা এখন নতুন করে আখ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
এসআরডিআই (SRDI)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল বাশার আশা প্রকাশ করে বলেন, যদি মিল চালু থাকে, তবে আগামী বছর আখ চাষের পরিমাণ আরও বাড়বে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আখ চাষ শুধু কৃষকের জন্য নয়, দেশের চিনি শিল্পের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

