মোঃ মিজানুর রহমান ডব্লিউ (বরগুনা): বরগুনার বেতাগীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ রেকর্ড ছুঁয়েছে।
বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ৪ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩০ জন ডেঙ্গু রোগী। এই সময়ের মধ্যে অনেকেই আবার বরিশালসহ অন্যান্য স্থানে উন্নত চিকিৎসার জন্য গেছেন।
চলতি বছর বেতাগীতে মোট ১১৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু অক্টোবর মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ জন, যা অন্যান্য মাসের তুলনায় অনেক বেশি।
আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন বেতাগী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব (তিনি বর্তমানে বরিশাল রাহাত আনোয়ার মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন) এবং উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক (বেতাগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন) সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ। স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে অনেক রোগী বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রবীন্দ্রনাথ জানান, প্রায় প্রতিদিনই নতুন রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আসছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “মশার প্রজনন স্থল ধ্বংসে সবাইকে সচেতন হতে হবে, না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।”
অন্যদিকে, স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, মশা নিধনে তেমন কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। পৌর এলাকা ও ইউনিয়নগুলোতে নিয়মিত ফগিং না হওয়ায় মশার উপদ্রব বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলাবদ্ধতা, অপরিষ্কার পরিবেশ এবং অনিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব ডেঙ্গু বিস্তারের অন্যতম কারণ। তাঁরা সবাইকে ঘরের ভেতরে ও আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজনন স্থল ধ্বংস করার আহ্বান জানিয়েছেন।

