ঢাকা: কিংবদন্তি লোকসংগীতশিল্পী ও ‘লালনকন্যা’ খ্যাত ফরিদা পারভীন আর নেই। শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকার ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন।
২ সেপ্টেম্বর ডায়ালাইসিসের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত বুধবার তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল।
১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া থানায় জন্মগ্রহণ করেন ফরিদা পারভীন। ১৯৬৮ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে তার পেশাদার সংগীতজীবন শুরু হয়। নজরুলগীতি ও দেশাত্মবোধক গান গাইলেও তিনি মূলত লালন সাঁইয়ের গান গেয়েই বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তার কণ্ঠে লালনগীতি বাংলার সংস্কৃতির গভীর দর্শন ও জীবনবোধকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
দেশের সংগীতাঙ্গনে তার অবদানের জন্য তিনি অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- ১৯৮৭ সালে একুশে পদক
- ১৯৯৩ সালে সেরা প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার
- ২০০৮ সালে জাপান সরকারের ‘ফুকুওয়াকা এশিয়ান কালচার’ পুরস্কার
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, তার প্রয়াণে দেশের সংগীতাঙ্গন এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হলো। তিনি আরও বলেন, “তার কণ্ঠে লালনের গান শুধু সুরেলা আবেগেই ভাসায়নি, আমাদের সংস্কৃতির অন্তর্লীন দর্শন ও জীবনবোধকেও নতুন মাত্রায় তুলে ধরেছিল।”
ফরিদা পারভীন স্বামী এবং চার সন্তান রেখে গেছেন। তার শিল্পকর্ম ও অবদান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে প্রেরণা জোগাবে এবং চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

