ঢাকা: দোহার উপজেলায় চাঞ্চল্যকর বিএনপি নেতা ও শিক্ষক হারুন অর রশিদ ওরফে হারুন মাস্টার হত্যা মামলার প্রধান শ্যুটারসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা পুলিশ। গত ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের একটি এলাকা থেকে এই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন শ্যুটার শরীফ (২৬) এবং তার সহযোগী আল আমিন (২২)। এই নিয়ে হারুন মাস্টার হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ২ জুলাই ভোর ৬টার দিকে দোহারের নয়া বাড়ি ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এবং বাহ্রা হাবিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হারুন মাস্টারকে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা। পরিবারের সদস্যরা তাকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় নিহত হারুন মাস্টারের ভাই আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে দোহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৭ জন এজাহারভুক্ত এবং অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়।
হত্যা মামলার পর ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান পিপিএম মামলাটির দ্রুত তদন্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে দোহার থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তারা ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত শ্যুটার শরীফ ও তার সহযোগী আল আমিনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তারা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনার পর খুনিরা ঘটনাস্থল রেকি করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, গত ৮ জুলাই মহসিন নামের আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি পরে আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর ১৪ জুলাই জিহাদ চোকদারকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়। তিনিও ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া, গত ৬ জুলাই মামলার এজাহারভুক্ত ৬ নম্বর আসামি ফারুক হোসেনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত শ্যুটার শরীফের বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় হত্যাচেষ্টা ও মতিঝিল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আরেক আসামি আল আমিনের বিরুদ্ধেও নবাবগঞ্জ থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা বিচারাধীন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।

