নারী- এই শব্দটির ভেতরেই লুকিয়ে আছে কোমলতা, শক্তি আর ভালোবাসার মহিমা। পৃথিবীর শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সভ্যতার প্রতিটি ধাপে নারীর অবদান অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তবুও যুগে যুগে নারীকে অবহেলা করা হয়েছে, তার স্বপ্নকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে, তার কণ্ঠকে স্তব্ধ করে রাখা হয়েছে, কোনো গন্ডিতে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে অথচ নারী ছাড়া জীবন, সমাজ, সভ্যতা—কিছুই পূর্ণতা পায় না।
নারী হলো মা, যে সন্তানের প্রথম শিক্ষক। নারী হলো বোন, যে ভাইয়ের সংগ্রামে প্রেরণা। নারী হলো স্ত্রী, যে জীবনের সঙ্গী হয়ে দুঃখ-সুখ ভাগ করে নেয়। নারী আবার সেই কন্যা, যে তার হাসিতে পরিবারকে আলোকিত করে। প্রতিটি সম্পর্কে নারী নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ঢেলে দেয় এই নারী।
তবুও প্রশ্ন থেকে যায় নারী কি শুধুই সম্পর্কের পরিচয়ে সীমাবদ্ধ? না, নারী একজন পূর্ণ মানুষ। তারও আছে স্বপ্ন, অধিকার, সম্মান আর স্বাধীনতার দাবি। সমাজ যখন নারীর কণ্ঠকে অবহেলা করে, তখন সেটি নিজের অস্তিত্বকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। কারণ নারীকে দমিয়ে রেখে কোনো সমাজ কখনো এগিয়ে যায়নি, বরং পিছিয়ে পড়েছে।
নারী শুধু কোমলতার প্রতীক নয়, তিনি সংগ্রামের প্রতীকও। তার চোখের জল যেমন মমতার নদী হয়ে বয়ে যায়, তেমনি তার প্রতিবাদের আগুন অন্ধকারকে ভস্মীভূত করতে পারে। ইতিহাস সাক্ষী—যখন নারী অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, তখন বড় বড় শাসককেও কেঁপে উঠতে হয়েছে।
আজকের পৃথিবীকে এগিয়ে নিতে হলে নারীকে তার প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে। শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র, রাজনীতি, সংস্কৃতি—সবখানেই নারীর পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নারী মানে অর্ধেক আকাশ, নারী মানে আলো, নারী মানে আগামী প্রজন্মের পথপ্রদর্শক।
নারীকে ছোট করা মানে মানবতাকে ছোট করা। নারীকে সম্মান করা মানে জীবনের সৌন্দর্যকে রক্ষা করা। ইসলামে নারীকে উচ্চ মর্যাদা দিয়েছে।
-মো. শাহাদাত হোসেন

