ইসলামী দৃষ্টিতে মানুষের জীবন চলার পথে করনীয় (যা করা উচিত) এবং বর্জনীয় (যা করা উচিত নয়) স্পষ্টভাবে কুরআন ও হাদীসে উল্লেখ আছে। সংক্ষেপে তা নিচে তুলে ধরা হলো—
✅ করণীয় (যা করা উচিত)
-
আল্লাহর একত্বে ঈমান আনা – একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা এবং শিরক থেকে দূরে থাকা।
-
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা – নিয়মিত সময়মতো নামাজ পড়া।
-
হালাল উপার্জন করা – সততা, আমানতদারিত্ব ও ন্যায্য পথে জীবিকা অর্জন।
-
যাকাত ও দান-সদকা করা – সম্পদের হক আদায় এবং অসহায়দের সাহায্য করা।
-
সদা সত্যবাদী হওয়া – মিথ্যা থেকে বাঁচা।
-
মাতাপিতা ও বড়দের সম্মান করা – তাদের আদেশ মান্য করা, যত্ন নেওয়া।
-
মানুষের সাথে উত্তম ব্যবহার করা – দয়া, নম্রতা ও ভদ্র আচরণ।
-
অন্যের হক আদায় করা – কারো প্রতি অবিচার না করা।
-
ধৈর্য ও কৃতজ্ঞ থাকা – বিপদে ধৈর্য ধারণ করা, ভালোতে শোকর আদায় করা।
-
ইলম হাসিল করা – দ্বীনী ও দুনিয়াবি জ্ঞান অর্জন করে সঠিক পথে চলা।
❌ বর্জনীয় (যা করা উচিত নয়)
-
শিরক ও কুফর – আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা বা ঈমান অস্বীকার করা।
-
নামাজ, রোযা, হজ, যাকাত ত্যাগ করা – ফরজ ইবাদত ছেড়ে দেওয়া।
-
হারাম উপার্জন করা – সুদ, ঘুষ, জুয়া, চুরি, প্রতারণা ইত্যাদি।
-
মিথ্যা বলা ও প্রতারণা করা।
-
অন্যের হক নষ্ট করা – কারো সম্পদ বা অধিকার অন্যায়ভাবে নেওয়া।
-
অশ্লীলতা ও ব্যভিচার – জিনা, পর্নোগ্রাফি, অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকা।
-
নেশা ও মাদকদ্রব্য গ্রহণ করা – মদ, গাঁজা, ইয়াবা ইত্যাদি।
-
গীবত, পরনিন্দা ও অপবাদ দেওয়া।
-
অহংকার ও গর্ব করা – নিজেকে বড় মনে করা।
-
অন্যায়-অত্যাচার করা – কাউকে কষ্ট দেওয়া, প্রাণী ও পরিবেশের ক্ষতি করা।
👉 সারসংক্ষেপে, ইসলামে জীবন চলার পথে আল্লাহর আনুগত্য, মানুষের প্রতি সদাচার এবং হারাম থেকে বেঁচে থাকা-ই মূল শিক্ষা।

