শাহের আলী, রৌমারী (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের রৌমারী ডিগ্রি কলেজ মাঠে দুপুরের পর থেকে বাড়তে শুরু করে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের ভিড়। সেই সঙ্গে ভিড় করেন উৎসুক জনতাও। নানা বয়স ও পেশার এসব মানুষ এসেছেন দেবী দুর্গাকে বিসর্জন দিতে। কেউ আবার এসেছেন বিসর্জন দেখতে। এই বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল থেকে রৌমারী ডিগ্রি কলেজের পুকুরে বিসর্জন শুরু হয়। চলবে রাত ৭টা পর্যন্ত। রৌমারী উপজেলার নয়টি প্রতিমা এই ঘাটে বিসর্জন দেওয়া হবে।
রৌমারী উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে আছেন নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। পুরো এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিশ। একেকটি মণ্ডপের প্রতিমা আসছে, আর সেই প্রতিমার সঙ্গে আসছেন অনেক মানুষ। ঢাক-ঢোল বাজিয়ে তাঁরা ট্রাক থেকে প্রতিমা নামাচ্ছেন। বিসর্জন ঘাটের পাশে তৈরি করা মঞ্চ থেকে দেওয়া হচ্ছে নির্দেশনা। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ঘাট থেকে প্রতিমাগুলো পুকুরের মাঝখানে বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেই সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মোকাবিলায় রয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
রৌমারী বাজার থেকে প্রতিমা বিসর্জন দিতে এসেছেন দিলীপ কুমার দাস। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছয় দিনের জন্য মা মর্ত্যে এসেছিলেন, কিন্তু আজ মা চলে যাচ্ছেন। তবে মায়ের আগমনে তাঁর ভক্ত ও পূজারিদের মধ্যে যে সম্প্রীতি তৈরি হয়েছে, তা বেঁচে থাকবে। মা আমাদের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি বাড়িয়ে দেবেন- এই প্রত্যাশা নিয়েই আজ আমরা মাকে বিসর্জন দিচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, এই বিসর্জনের মাধ্যমে আমরা মায়ের প্রতিমা ভাসানোর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের নেতিবাচক প্রবৃত্তিগুলোকেও বিসর্জন দিই। মায়ের বিসর্জনের এটাই শিক্ষা।

