মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে কালী নদীর লঞ্চঘাট এলাকায় পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, এমপি।
গত ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার দুপুরে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তরের আয়োজনে রাজস্ব খাতের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়, প্লাবনভূমি ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার কালী নদী ও উপজেলা পরিষদের পুকুরে মোট ২৭৯ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়। এর মধ্যে কালী নদীতে ২২১ কেজি এবং উপজেলা পরিষদের পুকুরে ৫৮ কেজি পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। অবমুক্ত করা পোনা মাছের মধ্যে ১৪০ থেকে ১৫০ কেজি রুই ও কাতলা এবং ১২০ থেকে ১৩০ কেজি মৃগেল ও কালিবাউশ প্রজাতির পোনা মাছ রয়েছে। ই-জিপি (e-GP) প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়ার আরএফকিউ (RFQ) পদ্ধতিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মোবারক ট্রেডার্স’ এসব পোনা সরবরাহ করে।
মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মাসুদ রানা বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় জলাশয়ে মাছের প্রাপ্যতা বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
পোনা মাছ অবমুক্তকরণ শেষে প্রতিমন্ত্রী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের আয়োজনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কিশোরগঞ্জ জেলার পরিচালন বাজেটে মেরামত ও সংরক্ষণের অধীন গ্রামীণ সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ (Off Pavement) স্কিম বাস্তবায়নের জন্য উপজেলায় নিয়োগপ্রাপ্ত এবং ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে ফেজ আউট হওয়া ২৬ জন এলসিএস (LCS) শ্রমিকের মধ্যে সঞ্চিত অর্থের চেক বিতরণ করেন। এ সময় প্রতিজন শ্রমিকের হাতে ১ লাখ ৯ হাজার টাকার চেক তুলে দেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রতিমন্ত্রী সরকারের জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রূপকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ভেদাভেদ ভুলে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, সরকারের প্রকৃত সফলতা ও জনকল্যাণমুখী ভাবমূর্তি অনেকাংশেই নির্ভর করে প্রশাসনের কার্যক্রম ও আচরণের ওপর। সাধারণ মানুষ যেন যেকোনো প্রয়োজনে সরকারি দপ্তরে এসে স্বাচ্ছন্দ্যে তাঁদের কথা বলতে পারেন এবং দ্রুত কাঙ্ক্ষিত সেবা পান, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে আসা মানুষ যেন কোনো ধরনের হয়রানি, অবহেলা বা অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘসূত্রতার শিকার না হন। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও নীতি বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি হলো মাঠ প্রশাসন। একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জনকল্যাণে বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব পরিকল্পনার সুফল প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে।
এর আগে সকাল থেকেই কুলিয়ারচরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। সকাল ১০টায় তিনি উপজেলার ফরিদপুর বাংলাবাজার উচ্চবিদ্যালয় এবং বেলা ১১টায় ছয়সূতী ইউনিয়নের জনতা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
বিকেল ৪টায় সালুয়া এমাদ উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ‘ডুমরাকান্দা ফ্রিজ কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি খেলার উদ্বোধন করেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় ও কুশল বিনিময় করেন।
পোনা মাছ অবমুক্তকরণ, চেক বিতরণ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. কিতাব আলী মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক এম. এ. হান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. শাহাদাৎ হোসেন শাহ আলম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম ইজাজুল হক, ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুসা শেখ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মাসুদ রানা, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আলী জিন্নাহ এবং কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হকসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

