বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): বান্দরবানের লামা উপজেলায় জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে একটি পরিবারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া গংয়ের বিরুদ্ধে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লামা চৌধুরী মার্কেটস্থ দৈনিক সংবাদ দিগন্তের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মো. আলমগীরের পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী আলমগীরের ছেলে মো. জাহিদ। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তাঁর দাদি মরহুমা মনেজা বেগম ১৯৭৯-৮০ সালে লামা উপজেলার ২ নম্বর লামা সদর ইউনিয়নের ২৫৫ নম্বর লামা মৌজায় আর/০৮ নম্বর হোল্ডিংমূলে পাঁচ একর তৃতীয় শ্রেণির জমি সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত পান। পরবর্তী সময়ে অনেক পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় করে সেখানে ফলজ ও বনজ বাগান সৃজন এবং বসতঘর নির্মাণ করেন তাঁরা। এরপর থেকে দীর্ঘ ৪৫-৪৬ বছর ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। দাদির মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে মো. আলমগীর জমিটি দেখাশোনা ও ভোগদখল করছেন। স্থানীয় কোনো হোল্ডিং মালিকের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের ভোগদখলে থাকা জমিটি নিজেদের বলে দাবি করেন। এ নিয়ে গত ২২ জুলাই বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের আদালতে ভূমি প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে ১৬/২০২৬ নম্বর মামলা দায়ের করেন তিনি। আদালত বিষয়টি সরেজমিনে তদন্তের জন্য লামার সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে নির্দেশ দেন।
পরবর্তী সময়ে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আতিকুর রহমান ২৫৫ নম্বর লামা মৌজার হেডম্যান ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদন তাঁদের পক্ষে না যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে গত ২০ অক্টোবর চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া জমির গ্রহীতা মো. আলমগীর ও সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে ঘুষ দাবির মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ তোলেন বলে দাবি করেন জাহিদ।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার আরও দাবি করে, জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে চিত্ত রঞ্জন বড়ুয়া গং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁদের সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। পাশাপাশি তাঁদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
এ সময় ভুক্তভোগী পরিবার উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে এসব তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানায়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে লামা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

