সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

কুলিয়ারচরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় আরও ২ জন গ্রেপ্তার

কুলিয়ারচরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় আরও ২ জন গ্রেপ্তার

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল করার ঘটনায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তাঁদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর সমিউল্লাহ পাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে ও গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা মো. সোহরাব হোসেন (৩৮) এবং ভাটি জগৎচর গ্রামের মৃত ইদ্রিস ভূঁইয়ার ছেলে আওয়ামী লীগ সমর্থক মো. লুৎফর রহমান (৫৭)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর দুপুরে কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের পূর্ব আব্দুল্লাহপুরের শান্তি মোড় এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। মিছিলে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ লেখা ব্যানার হাতে নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতে দেখা যায়। পরে মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার সত্যতা ও ভিডিও ফুটেজ যাচাইয়ের পর গত ১৪ অক্টোবর রাতে কুলিয়ারচর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়। কুলিয়ারচর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পক্ষে মিছিল ও স্লোগান দিয়ে জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের সংহতি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনা সৃষ্টি করেছেন।

মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এর আগে গত ১৫ অক্টোবর একই মামলায় কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার গ্রেপ্তার হওয়া সোহরাব হোসেন ও লুৎফর রহমানকে দুপুরে কিশোরগঞ্জের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে মামলার এজাহারে তাঁদের নাম না থাকলেও তদন্তে তাঁদের সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানা-পুলিশ জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *