পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের ঐতিহাসিক পাথরঘাটায় অটোভ্যানচালক মো. শাখাওয়াত হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তাঁর অটোভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। অভিযান চালিয়ে উপজেলার শালপাড়া ও সদর উপজেলার মঙ্গলবাড়ি এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. শাহীন হোসেন (৩০) বাদী হয়ে পাঁচবিবি থানায় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর ১৬/৩৫২। মামলাটি দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩০২/৩৪/৩৯৪ ধারায় করা হয়।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাজু কামালের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যার পর উপজেলার ধাওয়াইপুর গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে মো. হাবিল উদ্দিনকে (৪০) শনাক্ত করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কৌশলে শাখাওয়াতকে শালাইপুর বাজার থেকে ফিচকাঘাট হয়ে পাথরঘাটায় নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে হত্যা করে অটোভ্যানটি ছিনতাই করেন। পরে ছিনতাই করা ভ্যানটি মঙ্গলবাড়ি এলাকার একটি বাড়িতে রেখে দেন।
ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে হাবিল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, নিহতের রক্তমাখা গামছা, ছিনতাই করা অটোভ্যান ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
আটাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু চৌধুরী বলেন, নিহত শাখাওয়াত খুবই সহজ-সরল ও ভালো ছেলে ছিলেন। এমন একজন ভালো ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করায় আমরা মর্মাহত। ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে ডিবি পুলিশকে তথ্য দিয়ে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন তাঁরা।
জয়পুরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়। এ সময় ডিবি পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়।

