নাটোর জেলা প্রতিনিধি: নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার হালতিবিলের প্রায় ৪০০ একর বিস্তীর্ণ এলাকার বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির অভাবে অবাধে শামুক নিধন চালিয়ে যাচ্ছে একশ্রেণির অসাধু চক্র। দিনদুপুরে চলছে এই নিধনযজ্ঞ। ফলে বিলের প্রাকৃতিক সম্পদ দিন দিন উজাড় হচ্ছে এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক হুমকি তৈরি হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দিনের বেলায় মাঝিরা শত শত নৌকা নিয়ে জাল ব্যবহার করে শামুক নিধনে মেতে উঠেছেন।
সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মী ফজলে রাব্বী জানান, শামুক প্রকৃতির স্বাভাবিক ‘ফিল্টার’ হিসেবে কাজ করে পানি পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। বিলে শামুকের সংখ্যা কমে গেলে পানিতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও শ্যাওলার প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে, যা প্রাকৃতিক পানি পরিশোধন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।
সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম তালুকদার ডাবলু বলেন, শামুকের খোলসে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান থাকে, যা জলাশয়ের তলদেশের মাটি ও পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। এ ছাড়া দেশীয় মাছ, বক, ডাহুকসহ বিভিন্ন জলচর পাখির অন্যতম খাদ্য শামুক। এভাবে শামুক বিলুপ্ত হতে থাকলে বিলের সামগ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এনটিভি অনলাইনের সাংবাদিক রানা আহম্মেদ বলেন, এ সংকট উত্তরণে উপজেলা প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে হালতিবিলে নিয়মিত টহল জোরদার এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি হাঁস ও মাছের খামারিদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে বিকল্প প্রস্তুতকৃত খাবারের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে স্থানীয় হাটবাজারে শামুক কেনাবেচা ও পরিবহন বন্ধে মাইকিং এবং সাধারণ মানুষ ও খামারিদের নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে হালতিবিলে অবৈধ শামুক নিধন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সবুজ আলী বলেন, শামুকে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে। জমিতে শামুক থাকলে মাটিতে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে, যা ফসলের জন্য উপকারী। এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে শামুক নিধনের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার বলেন, ইতিমধ্যে শামুক নিধনের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। হালতিবিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিভিন্ন এলাকায় আমাদের অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে।

