আকতার হোসেন বকুল, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট): জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা গ্রামের সহোদর দুই ভাই নুরুজ্জামান ও নূর ইসলাম। পড়ালেখার চেয়ে ফুটবলই যেন তাদের ধ্যান-জ্ঞান। ছোটবেলা থেকেই বই-খাতার চেয়ে মাঠেই তাদের সময় কাটত বেশি। সেই ভালোবাসা থেকেই বড় ভাই নুরুজ্জামান এখন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলছেন।
বড় ভাই নুরুজ্জামান এসএসসি পাস করার পর পড়ালেখার ইতি টানলেও ছোট ভাই নূর ইসলাম আগামীতে এসএসসি পরীক্ষায় বসবেন। তবে দুজনের স্বপ্ন একটাই- ফুটবল।
নুরুজ্জামান বলেন, “বাগজানা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আব্দুল কাদের স্যার এবং প্রয়াত সেলিম মাস্টার আমাকে শুধু ফুটবল খেলাই শেখাননি, তাদের ভালোবাসা, শাসন ও উৎসাহেই আজ আমি এতদূর আসতে পেরেছি।”
বাগজানার গণ্ডি পেরিয়ে পাঁচবিবি উপজেলা মাঠে খেলতে গিয়ে তাপস, কাজল ও রুহুল ভাইদের মতো মানুষের ভালোবাসা ও দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ পেয়েছেন তিনি। যার ফলশ্রুতিতে বর্তমানে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় অনুষ্ঠিত বড় বড় ফুটবল টুর্নামেন্টে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে খেলছেন নুরুজ্জামান।
একসময় নিজ গ্রামের বাগজানা মাঠে যাকে খেলতে দেওয়া হতো না, সেই নুরুজ্জামান এখন বড় বড় আসরের ফুটবল ম্যাচে রাইট সাইড ডিফেন্স সামলান। ক্ষিপ্রগতিতে বল নিয়ে ছুটে চলার কারণে ধারাভাষ্যকাররা তাকে ‘বুলডোজার নুরু’, ‘টাইগার নুরু’ কিংবা ‘দ্রুতগতির নুরু’ নামে ডেকে থাকেন।
নুরুজ্জামান এখন উত্তরবঙ্গের পরিচিত তারকা ফুটবলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। বিভিন্ন মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে তিনি একাধিক পুরস্কারও অর্জন করেছেন।
অন্যদিকে, তার ছোট ভাই নূর ইসলাম সাড়ে আট গজের গোলপোস্ট একাই সামলান। দক্ষ গোলকিপার হিসেবে ইতোমধ্যে তিনি এলাকায় সুনাম কুড়িয়েছেন। জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এ দুই ভাই পাঁচবিবি উপজেলা দলের হয়ে অংশ নিয়েছেন এবং দলকে সফলতা এনে দিতে ভূমিকা রেখেছেন।
ঢাকার যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান ও জাবিদ আহসান সোহেল ক্লাবের হয়ে কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন ম্যাচ খেলেছেন নুরুজ্জামান। তবে তার চূড়ান্ত স্বপ্ন- একদিন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেশের জন্য সেরা নৈপুণ্য উপহার দেওয়া।

