আতাউর রহমান কাজল (শ্রীমঙ্গল): প্রকৃতির রঙের বৈচিত্র্য মানুষের মনকে সহজেই আকৃষ্ট করে। হলুদ, সাদা কিংবা গোলাপির পাশাপাশি ফুলের জগতে গাঢ় লাল রংও তৈরি করে অনন্য সৌন্দর্য। তেমনই দৃষ্টিনন্দন একটি ফুল লাল অলকানন্দা। চোঙ বা ফানেল আকৃতির গাঢ় লাল ফুল আর সবুজ পাতার সমন্বয়ে অলকানন্দা বাড়ির আঙিনা, বাগান কিংবা ছাদবাগানে সৃষ্টি করে নান্দনিক আবহ।
অলকানন্দা বা অ্যালামান্ডা (Allamanda) গণের একটি উদ্ভিদ। এর বহুল পরিচিত প্রজাতি অ্যালামান্ডা ক্যাথারটিকা (Allamanda cathartica), যা অ্যাপোসাইনেসি (Apocynaceae) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এর প্রচলিত ইংরেজি নাম গোল্ডেন ট্রাম্পেট (Golden trumpet) বা গোল্ডেন ট্রাম্পেট ভাইন (Golden trumpet vine)। উদ্ভিদটির আদি বিস্তৃতি দক্ষিণ আমেরিকার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন উষ্ণমণ্ডলীয় দেশে এটি শোভাবর্ধক উদ্ভিদ হিসেবে চাষ করা হয়।
তবে অলকানন্দার বিভিন্ন উদ্যানজাত রূপ ও সংকর জাতের কারণে ফুলের রঙে বৈচিত্র্য দেখা যায়। এর মধ্যে গাঢ় লাল, মেরুন বা লালচে রঙের ফুল বিশেষভাবে নজরকাড়া। এই লাল অলকানন্দার চোঙ আকৃতির ফুল দূর থেকেই দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। হলুদ অলকানন্দার তুলনায় গাঢ় লাল ফুলের রং বাগানের সবুজের মধ্যে আলাদা মাত্রার সৌন্দর্য তৈরি করে।
লাল অলকানন্দা মূলত শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বাড়ির প্রবেশপথ, সীমানা, বেড়া, বারান্দা কিংবা ছাদবাগানে এর সৌন্দর্য সহজেই ফুটিয়ে তোলা সম্ভব। লতানো স্বভাবের কারণে কোনো অবলম্বন পেলে এটি তা বেয়ে ওপরে উঠতে পারে। আবার নিয়মিত ছাঁটাই করলে গাছকে অপেক্ষাকৃত ছোট ও ঝোপালো আকৃতিতেও রাখা যায়।
অলকানন্দা রৌদ্রপ্রিয় উদ্ভিদ। পর্যাপ্ত আলো ও সরাসরি রোদে এর ফুল ফোটার প্রবণতা ভালো থাকে। পানি যাতে জমে না থাকে, এমন উর্বর ও পানি নিষ্কাশনযোগ্য মাটি এ গাছের জন্য উপযোগী। টবেও সহজে চাষ করা যায় বলে শহরের ছাদবাগান ও সীমিত জায়গার বাগানেও এটি সৌন্দর্য বাড়াতে পারে।
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের মধ্যে ফুলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আর সেই সৌন্দর্যের ভিন্ন এক প্রকাশ গাঢ় লাল অলকানন্দা। সবুজ পাতার ফাঁকে ফানেল আকৃতির লাল ফুলগুলো যেন প্রকৃতির ক্যানভাসে আঁকা একেকটি উজ্জ্বল রঙের তুলির আঁচড়। শহর কিংবা গ্রামের বাগানে এমন একটি ফুলের গাছ শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, মানুষের মনেও এনে দেয় প্রশান্তি ও প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার অনুভূতি।

