দোহার (ঢাকা): ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম প্রসিদ্ধ সুফি সাধক, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও আধ্যাত্মিক শিক্ষক হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)। তিনি ‘গাউছুল আজম’, ‘বড় পীর’ ও ‘পীরানে পীর’ নামে মুসলিম সমাজে পরিচিত। আনুমানিক ১০৭৭ খ্রিষ্টাব্দে পারস্যের জিলান অঞ্চলে তাঁর জন্ম। পরবর্তী সময়ে তিনি জ্ঞানচর্চা ও আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য বাগদাদে যান।
হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) কোরআন, হাদিস, ফিকহ ও ইসলামী জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা, আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও মানবসেবার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক সাধনার ধারাকে কেন্দ্র করে পরবর্তী সময়ে কাদেরিয়া তরিকা মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত হয়।
তিনি ১১৬৬ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন। তাঁর ওফাত স্মরণে বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় আলোচনা, দোয়া ও ফাতেহার আয়োজন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকার দোহার উপজেলায় ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম ও দেশ, জাতি এবং বিশ্বশান্তির জন্য বার্ষিক ৪৫তম দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাউছিয়া কাদেরীয়া তরিকা বাংলাদেশের উদ্যোগে এবং খেদমতে আশেকান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীম খলিল সবুজের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
গাউছিয়া কাদেরীয়া তরিকা বাংলাদেশের খেদমতে আশেকান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহীম খলিল সবুজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দোহার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আতাউর রহমান সানী, বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. আক্কাস আলী খান, আব্দুল মালেক খান ও জনবান্ধব সেবক মো. পিয়ার আলী মাদবরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আব্দুস সুক্কুর। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পদ্মা সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. আলমগীর হোসেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মো. শহিদুল ইসলাম, এনএসআই কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান, ডিজিএফআই কর্মকর্তা মো. তাজুল হোসেন, মো. সবুজ বেপারী, জাকির হোসেন, সাংবাদিক নাজমুল হোসেন অন্তর, মো. শাহাদাত হোসেন, নাজনীন সিকদার, মো. রাহীম, মো. ফয়সালসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানে হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর জীবন ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে দেশ ও জাতির কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং বিশ্বশান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

