সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

দোহারের কৃতি সন্তান বীর উত্তম আবদুস সালেক চৌধুরীর ৮০তম জন্মবার্ষিকী আজ

দোহারের কৃতি সন্তান বীর উত্তম আবদুস সালেক চৌধুরীর ৮০তম জন্মবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, দোহার (ঢাকা): ঢাকার দোহার উপজেলার কৃতি সন্তান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর যোদ্ধা মেজর আবদুস সালেক চৌধুরী বীর উত্তমের ৮০তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৪৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দোহার উপজেলার হাতুরপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করে। তাঁর বীরত্বের খেতাবের গেজেট নম্বর ১৯।

মুক্তিযুদ্ধের সময় আবদুস সালেক চৌধুরী পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। ১৯৭১ সালের ২২ এপ্রিল তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। প্রথম দিকে মেজর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কুমিল্লা অঞ্চলে যুদ্ধ করেন। পরে ২ নম্বর সেক্টরের সালদা নদী সাব-সেক্টরের দায়িত্ব পান।

সালদা নদী অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযানে তিনি নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্রেও সালদা নদী সাব-সেক্টরের অধিনায়ক হিসেবে তাঁর নাম উল্লেখ রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে সালদা নদী, নয়নপুর ও আশপাশের এলাকায় মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনা করে।

১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে মেজর খালেদ মোশাররফ আহত হলে আবদুস সালেক চৌধুরী ‘কে’ ফোর্সের দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে ১০ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গেও তাঁর নেতৃত্বের উল্লেখ পাওয়া যায়।

সালদা নদীর যুদ্ধ তাঁর সামরিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেপ্টেম্বরের যুদ্ধে তাঁর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর অবস্থানের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালায়। এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের গোলাবারুদ কমে গেলে তাঁরা অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হন। তবে ওই অভিযানে পাকিস্তানি বাহিনীও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে বলে যুদ্ধবিষয়ক বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে লেখক তাজুল মোহাম্মদ ‘মেজর আব্দুস সালেক চৌধুরী বীর উত্তম ও সালদা যুদ্ধ’ নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় সাহিত্য প্রকাশ থেকে এবং এতে তাঁর জীবন ও সালদা নদীর যুদ্ধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।

স্বাধীনতার পরও দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকার সুযোগ পাননি এই বীর সেনানী। ১৯৭২ সালের ১৯ নভেম্বর যশোরে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। কোনো কোনো সূত্রে দুর্ঘটনার কথা বলা হয়েছে, আবার অন্য বর্ণনায় ভিন্ন দাবি রয়েছে। ফলে মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক ও অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ থাকলেও নির্দিষ্ট কোনো কারণকে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত বলা সতর্কতার দাবি রাখে।

মাত্র ২৬ বছর বয়সে জীবনাবসান হলেও মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সাহসিকতা ও নেতৃত্ব তাঁকে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় করে রেখেছে। দোহার উপজেলার হাতুরপাড়ার এই সন্তান আজও স্থানীয় মানুষের কাছে গর্ব ও অনুপ্রেরণার প্রতীক। তাঁর ৮০তম জন্মবার্ষিকীতে মুক্তিযুদ্ধের এই বীর সেনানীর প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *