সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

নাটোরের নলডাঙ্গায় সম্পত্তি দখল ও হামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

নাটোরের নলডাঙ্গায় সম্পত্তি দখল ও হামলার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

নাটোর জেলা প্রতিনিধি: নাটোরের নলডাঙ্গায় বসতভিটার সম্পত্তির দখল চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূ ও তার স্বামীর ওপর হামলা, মারধর, শ্লীলতাহানি এবং স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোছা. কবিতা খাতুন (৩০) নামে এক গৃহবধূ নলডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নলডাঙ্গা উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কবিতা খাতুন অভিযোগ করেন, রামশার কাজিপুর মৌজায় তার স্বামী মো. শফিকুল ইসলামের নামে থাকা প্রায় ১০ শতাংশ বসতভিটার জায়গা আব্দুস সামাদ (৪৫), তার ছেলে মো. হাসান আলী (২৫), মো. আব্দুল হামিদ (৪০) ও মো. হাসেম আলী (২৩) দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক ভোগদখল করে আসছেন।

কবিতা খাতুনের অভিযোগ, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১১টা ৫ মিনিটে তিনি সম্পত্তির দখল চাইতে গেলে অভিযুক্তরা দখল দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তিনি প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র ও বাঁশের লাঠি নিয়ে দলবদ্ধভাবে তার বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও অভিযোগ করেন, মো. আব্দুল হামিদের নির্দেশে আব্দুস সামাদ বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করেন। এতে মাথার পেছনের বাম পাশে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়ে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে মো. হাসান আলী তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়।

এ সময় মো. হাসেম আলী তার পরনের সালোয়ার-কামিজ ধরে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন এবং মো. আব্দুল হামিদ তার গলায় থাকা আনুমানিক ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেন বলেও অভিযোগ করেন কবিতা খাতুন। চেইনটির আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে জানান তিনি।

কবিতা খাতুন জানান, তাকে রক্ষা করতে তার স্বামী মো. শফিকুল ইসলাম এগিয়ে এলে মো. হাসান আলী ও মো. আব্দুল হামিদ তাকেও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিলা-ফোলা ও কালশিরার জখম হয়।

তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা গালিগালাজ, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাকে অটোরিকশাযোগে নলডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চিকিৎসা দেন।

ঘটনার সময় মোছা. হুরজান বেগম, মোছা. তানজিলা বেগম ও মো. শাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় আরও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে কবিতা খাতুন অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার জাহান জানান, কবিতা খাতুনের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *