মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে রাতের আঁধারে দুই নিরীহ কৃষকের ফলজ ও বনজ চারা গাছ কেটে নিধন করেছে দুর্বৃত্তরা। গত ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর মৌলভীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে ভুক্তভোগী দুই পরিবারের প্রায় দুই লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর মৌলভীপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের দুই ছেলে মো. আইন উদ্দিন (৪০) ও মো. মোস্তফা (৩৫) তাঁদের বসতবাড়ির আঙিনায় এবং পার্শ্ববর্তী বাগানে কাঁঠাল, আম, কলা, চালতা ও মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ চারা গাছ রোপণ করে পরিচর্যা করে আসছিলেন। শনিবার রাতে যেকোনো এক সময় একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাগানের প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি বাড়ন্ত চারা গাছ কেটে ফেলে। সকালে ঘুম থেকে উঠে আঙিনা ও বাগানের ফলজ-বনজ গাছগুলোর এমন করুণ দশা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিরীহ দুই ভাই।
ভুক্তভোগী কৃষক আইন উদ্দিন ও মোস্তফা জানান, সম্প্রতি নিজেদের বাগানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়ি ও বাগানের সীমানা ঘেঁষে তাঁরা কয়েকটি বাঁশের বেড়া দেন। এর ফলে ইতিপূর্বে বাগানের ভেতর দিয়ে যাঁদের যাতায়াত ছিল, তাঁদের সাময়িক চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এই পথ বন্ধ হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে কোনো চক্র বা ব্যক্তি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে রাতের আঁধারে তাঁদের স্বপ্নের বাগানটি নষ্ট করে দিয়েছে।
এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শত শত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত বাগান দেখতে লক্ষ্মীপুর মৌলভীপাড়ায় আসছেন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হেলিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের বর্বরতা মেনে নেওয়া যায় না। গাছগুলোর সঙ্গে এমন নিষ্ঠুর শত্রুতা সত্যিই মর্মান্তিক। বাঁশ দিয়ে বেড়া দেওয়ার কারণে কারও যাতায়াতে সমস্যা হলে তা আমাকে জানালে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত। কিন্তু এভাবে নিরীহ কৃষকদের এত বড় ক্ষতি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি এ ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
গাছ কেটে ফেলার এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র নিন্দার ঝড় বইছে। ভুক্তভোগী দুই ভাই এখন কী করবেন, কোথায় বিচার দিলে বিচার পাবেন- এ নিয়ে শঙ্কায় আছেন বলে জানান। অপরদিকে, তাঁরা পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন।
এ ব্যাপারে গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা কামাল (কাজল) এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলিমের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

