মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): মাদকবিরোধী অভিযানে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কিশোরগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ মাদকদ্রব্য উদ্ধারকারী কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন প্রশংসায় ভাসতে থাকা কুলিয়ারচর থানার সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) সুজন বিশ্বাস।
জেলা পুলিশের জুলাই ২০২৬ মাসের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে তাঁকে এ সম্মানে ভূষিত করা হয়। গত ১৮ আগস্ট জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এসআই সুজন বিশ্বাসের হাতে এ সম্মাননা ও প্রশংসাপত্র তুলে দেন। এ সময় জেলা পুলিশ ও বিভিন্ন থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কুলিয়ারচর থানায় যোগদানের পর থেকে বিগত প্রায় দুই বছর ধরে মাদক নির্মূল ও এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এসআই সুজন বিশ্বাস। এ সময়ে তিনি অর্ধশতাধিক সফল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পাশাপাশি শতাধিক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনেন। গড়ে প্রতি মাসে ৫ থেকে ৬টি সফল অভিযানের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ইতোপূর্বেও একাধিকবার সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
উপহার পেয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে এসআই সুজন বিশ্বাস বলেন, এই স্বীকৃতি আমার একার নয়; এটি কুলিয়ারচর থানার পুরো টিমের যৌথ প্রচেষ্টার ফল। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এ অভিযান সামনে আরও জোরদার হবে। জনগণের সহযোগিতা নিয়ে ভবিষ্যতেও সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে চাই।
এ অর্জন নিয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, এসআই সুজন বিশ্বাস একজন অত্যন্ত দক্ষ, পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তাঁর এ অর্জনে আমাদের পুরো টিমের কাজের গতি ও উদ্দীপনা বহুগুণ বেড়ে গেছে। কুলিয়ারচরকে পুরোপুরি অপরাধ ও মাদকমুক্ত রাখতে আমাদের বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যেই হোক না কেন, কাউকেই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
অভিযান ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এসআই সুজন বিশ্বাসের এমন সাফল্যে কুলিয়ারচর থানার অন্য পুলিশ সদস্যদের মধ্যেও উৎসবমুখর পরিবেশ ও সন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ অর্জনে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেছেন, পুলিশের এ কঠোর অবস্থান কুলিয়ারচরকে দ্রুত মাদকমুক্ত অঞ্চলে পরিণত করতে ভূমিকা রাখবে।
এসআই সুজন বিশ্বাসের মতো থানার প্রতিটি কর্মকর্তা যদি মাদকের বিরুদ্ধে এমন কঠোর অবস্থান নেন, তাহলে দ্রুতই কুলিয়ারচর মাদক ও অপরাধমুক্ত হবে- এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

