সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে গড়মিলের অভিযোগ, ন্যায়বিচারে বাধার আশঙ্কা

সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে গড়মিলের অভিযোগ, ন্যায়বিচারে বাধার আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার একটি সিআর মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে গড়মিল, দীর্ঘসূত্রতা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা জেলা অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর তদন্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। মামলার বাদীর অভিযোগ, তদন্ত কর্মকর্তাদের দেওয়া প্রতিবেদনে প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে অসঙ্গতি রয়েছে, যা ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত, নবাবগঞ্জে আবেদন করেছেন মামলার বাদী। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত, নবাবগঞ্জে জাল-জালিয়াতির অভিযোগে সিআর মামলা নম্বর ১৯৬/২০২৫ দায়ের করেন বাদী মাহবুবুর রহমান টিপু। আদালত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে মামলাটি তদন্তের জন্য ঢাকা জেলা অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-কে দায়িত্ব দেন।

দীর্ঘ সময় পর গত ২৭ জুলাই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে ঢাকা জেলা সিআইডি। প্রতিবেদন দাখিলের পর মামলার বাদী তদন্ত কর্মকর্তাদের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালতে আবেদন করেন।

মামলার বাদী মাহবুবুর রহমান টিপুর অভিযোগ, নবাবগঞ্জ উপজেলার চুড়াইন ইউনিয়নের দুর্গাপুর মৌজায় তাঁর পিতার নিকটাত্মীয়রা প্রতারণামূলকভাবে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে স্বাক্ষর জাল করে নবাবগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৯০ শতাংশ বাড়ির জমির সাফ কবলা দলিল (দলিল নম্বর-৪৫৩৮, তারিখ-২৩ আগস্ট ১৯৮২) সৃষ্টি করেন।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- নবাবগঞ্জ উপজেলার চুড়াইন ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের মৃত রফিক উদ্দিনের ছেলে শেখ মো. রাশেদুল ইসলাম (৪৯), মো. মিজানুর রহমান সোহেল (৪৩), পুষ্প আক্তার (৫১), আফরোজা আক্তার ইতি (৪৮), রোকেয়া ইসলাম স্মৃতি (৪৪), রাবেয়া সুলতানা (৪০), রফিক উদ্দিনের স্ত্রী সুফিয়া ইসলাম (৭৫) এবং কামারখোলা গ্রামের মৃত মোবারক আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম (৭৬)।

বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে বিজ্ঞ আদালত ঢাকা জেলা সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন এসআই মো. আইযুব আলী (বিপি নম্বর-৬৯৮৯০১৫৫৫৫৬) ও এসআই দিগন্ত দাস (বিপি নম্বর-৯২২১২৩৭৮১৬)।

বাদী অভিযোগ করেন, তদন্ত কর্মকর্তারা দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করে অভিযুক্তদের পক্ষে একটি ‘মনগড়া’ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছেন। প্রতিবেদনে ছয়জন সাক্ষীর ১৬১ ধারায় জবানবন্দির কথা উল্লেখ করা হলেও, তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তারা কোনো ধরনের যোগাযোগ না করেই জবানবন্দি দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মামলার বাদীর আরও অভিযোগ, তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সাক্ষীর ১৬১ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হলেও তদন্ত প্রতিবেদনে সেগুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তারা অভিযুক্তদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বাদী জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তিনি সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় সাক্ষীরা বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেন। তাঁদের দাবি, তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁদের কোনো সাক্ষাৎ হয়নি এবং তাঁরা কোনো জবানবন্দিও দেননি।

বাদীর প্রশ্ন, সাক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ না করেই তাঁদের নামে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি কীভাবে তদন্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হলো?

বাদীর দাবি, তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা, গাফিলতি, পক্ষপাতিত্ব এবং অনিয়মের কারণে তিনি অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে তদন্ত কর্মকর্তারা অভিযুক্তদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন- এমন অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে সিআর (জাল-জালিয়াতি) ১৯৬/২০২৫ মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বিজ্ঞ আদালত বাদীর আবেদন মঞ্জুর করে শুনানির দিন ধার্য করেছেন। ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত প্রয়োজনে পুনঃতদন্তের দায়িত্ব অন্য কোনো সংস্থা বা একাধিক সংস্থাকে দিতে পারেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আইযুব আলীর সঙ্গে তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি বর্তমানে বদলিজনিত কারণে অন্যত্র আছি। এ বিষয়ে কথা বলতে পারব না।

অপর তদন্ত কর্মকর্তা দিগন্ত দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কথা বলতে পারব না।

মামলাটি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও তদন্ত প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের শুনানি ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *